মেডিক্যালে আসন বৃদ্ধি, মেদিনীপুরে এমসিআই দল

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করল মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই)-র এক প্রতিনিধি দল। তিন সদস্যের দলটি মঙ্গলবার দিনভর মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:০১
Share:

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করল মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এমসিআই)-র এক প্রতিনিধি দল। তিন সদস্যের দলটি মঙ্গলবার দিনভর মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে।

Advertisement

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এখন আসন সংখ্যা ১০০টি। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০ করার প্রস্তাব দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। আগেই এমসিআই-এর কাছে মেদিনীপুর মেডিক্যালের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব গিয়েছে। আসন সংখ্যা বাড়ানোর আগে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। ঠিক কী কী পরিকাঠামো রয়েছে, কী কী পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা দেখতেই এমসিআই-এর এই পরিদর্শন বলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল সূত্রে খবর। মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ তমালকান্তি ঘোষ বলেন, “এটা রুটিন ব্যাপার। মেডিক্যালে আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন ১০০টি আসন রয়েছে। এটা বাড়িয়ে ১৫০ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতেই এমসিআই- এর এই পরিদর্শন।”

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ গড়ে ওঠে ২০০৪ সালে। শুরু থেকেই এখানে আসন সংখ্যা ওই ১০০টি। প্রস্তাব মঞ্জুর হলে এই প্রথম আসন সংখ্যা বাড়বে মেডিক্যালে। ২০০৪ সালে মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত হয়। অবশ্য হাসপাতালের পরিকাঠামোয় বিশেষ বদল আসেনি বলে অভিযোগ। নতুন নতুন কিছু ওয়ার্ড-ইউনিট খোলা হয়েছে। তবে পরিষেবা সেই তিমিরে! ডায়ালিসিস ইউনিট এবং সিসিইউতে শয্যা সংখ্যা কম। ফলে, প্রায়শই সমস্যা হয়। ইমার্জেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডের পরিকাঠামো নিয়েও অভিযোগ আছে।

Advertisement

মেডিক্যালে পুরনো কিছু রোগও এখনও থেকে গিয়েছে! যেমন, সিনিয়র ডাক্তাররা সময় মতো আসেন না। বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও তাঁদের দেখা মেলা ভার! ফলে, চিকিত্‌সা পরিষেবা ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনায় জখমরাও সময় মতো সব পরিষেবা পায় না। সিনিয়র ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে সব দিক সামলান জুনিয়র ডাক্তাররাই। মেডিক্যালের এক সূত্রের বক্তব্য, আসন সংখ্যা বাড়লে জুনিয়র ডাক্তারের সংখ্যাও বাড়বে। সেদিক থেকে হাসপাতালেরও সুবিধে হবে! মেডিক্যালের এক কর্তা বলেন, “সিনিয়র ডাক্তাররা যাতে সময় মতো আসেন, কাজ করেন, সেই দিকটি দেখা হয়। হয়তো বেশি কড়া হওয়া যায় না! তবে কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে আমাদের চেষ্টার খামতি নেই! এ ব্যাপারে সব রকম চেষ্টাও চলছে।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, মেডিক্যালে যে সংখ্যক শয্যা রয়েছে, তার তুলনায় কর্মীর সংখ্যা কমই। কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য দফতরে সুপারিশও করা হয়েছে। মেদিনীপুর মেডিক্যালের বিভিন্ন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এমসিআই-এর দলটি সোমবার মেদিনীপুরে পৌঁছয়। ওই দিনও কলেজের কিছু দিক খতিয়ে দেখেন তাঁরা। মঙ্গলবারও দিনভর পরিদর্শন চলে। মেডিক্যালের এক সূত্রের দাবি, পরিকাঠামো দেখে খুব একটা অসন্তুষ্ট হননি ওই দলের সদস্যরা। বরং কয়েকটি দিক নিয়ে তাঁরা সন্তোষই প্রকাশ করেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement