সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে দিল বিজেপি। মেদিনীপুর শহর থেকেই শুরু হল পশ্চিম মেদিনীপুরে পুনর্গঠনের কাজ।
রবিবার মেদিনীপুরে জেলা বিজেপির বর্ধিত সভা হয়। সভায় ছিলেন দলের তরফে জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত বিজেপির রাজ্য সহ-সভানেত্রী কৃষ্ণা ভট্টাচার্য। লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে এই প্রথম জেলা বিজেপির বর্ধিত সভা হল মেদিনীপুরে। বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “রবিবার মেদিনীপুরে আমাদের দলের বর্ধিত সভা হয়েছে। সংগঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।”
বিজেপি সূত্রের খবর, লোকসভা নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করে নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছেন, দলের প্রতি জনসমর্থনকে সাংগঠনিক খাঁচায় নিয়ে আসা জরুরি। এ জন্য উপযুক্ত নেতা-কর্মী তৈরি করতে হবে। বর্ধিত সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলের এক সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বৈঠকে দলের শহর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। আগের কমিটির তিন জন বাদ পড়েছেন, নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন চার জন। নেতৃত্বের দাবি, শহর কমিটি থেকে যে তিন জন বাদ পড়েছেন, তাঁদের অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির শহর সভাপতি অরূপ দাস জানান, এটা সাংগঠনিক ব্যাপার। আগামী দিনে অন্যত্রও সংগঠন পুনর্গঠন করা হতে পারে বলে খবর।
এ বারের লোকসভা ভোটে আসানসোল থেকে জিতে সাংসদ হয়েছেন বিজেপির বাবুল সুপ্রিয়। বাবুল হারিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী দোলা সেনকে। আসানসোলে কী ভাবে এই সাফল্য মিলেছে, এ দিন বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তা বোঝান কৃষ্ণাদেবী। বুথস্তরে সংগঠন গড়ার উপরও জোর দেন তিনি। বর্ধিত সভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের তাঁর বার্তা, তৃণমূলের মতো দলের সঙ্গে টক্কর দিতে হলে বুথ-ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা জরুরি।
পশ্চিম মেদিনীপুরে কার্যত বিনা সংগঠনেই এ বার লোকসভা নির্বাচনে গড়ে ১০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি। তিনটি আসনে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার মেদিনীপুরে ১৪ শতাংশ, ঘাটালে ৭ শতাংশ এবং ঝাড়গ্রামে ১০ শতাংশ। জেলায় বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে ১৯টি। বিধানসভা ওয়াড়ি হিসেবেও ভাল ফল করেছে বিজেপি। খড়্গপুর সদরে তারাই এগিয়ে রয়েছে। এখানে দলের প্রাপ্ত ভোট ৫১ হাজার। সেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৪০ হাজার এবং কংগ্রেস পেয়েছে ২১ হাজার ভোট। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে শুধুমাত্র কেশপুর বাদে বাকি ১৮টি কেন্দ্রেই ভোট বেড়েছে বিজেপির। এর মধ্যে ১০ শতাংশের উপর ভোট বেড়েছে তিনটি কেন্দ্রে খড়্গপুর সদর, মেদিনীপুর এবং কেশিয়াড়ি। ৫ শতাংশের উপর ভোট বেড়েছে দশটি কেন্দ্রে আর ৫ শতাংশের কম ভোট বেড়েছে পাঁচটি কেন্দ্রে। শুধুমাত্র কেশপুরেই ০.৭৭ শতাংশ ভোট কমেছে বিজেপির। বিজেপি নেতৃত্বের অবশ্য দাবি, কেশপুরে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। অবাধ ভোট হলে এখানে অন্তত ১০-১২ শতাংশ ভোট বাড়ত।
বিজেপি সূত্রে খবর, এ দিন সদ্য দলে আসা অন্তরা ভট্টাচার্য ও অশোক সেনাপতিকে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে ডাকা হয়েছিল। অন্তরাদেবী জেলা পরিষদের প্রাক্তন সিপিএম সভাধিপতি ছিলেন। অশোকবাবু সিপিআইয়ের শ্রমিক সংগঠন এআইটিইউসির জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। অন্তরাদেবী সভায় বক্তব্যও রাখেন। দলীয় সূত্রে খবর, সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে বেলা দেড়টা নাগাদ পর্যন্ত সভা হয়। ব্লক সভাপতি এবং শহর সভাপতিরা নিজ নিজ এলাকার রিপোর্ট পেশ করেন। গত এক মাসে কী কী কর্মসূচি হয়েছে, আগামীতে কী হবে, তা-ও জানান। আগামী বছর জেলার ৬টি পুরসভায় (খড়ার, রামজীবনপুর, চন্দ্রকোনা, ক্ষীরপাই, ঘাটাল, খড়্গপুর) ভোট। পুরভোটে সাফল্য পেতে এখন থেকেই ঘর গোছানোর নির্দেশ দেন নেতৃত্ব। সংগঠনের শৃঙ্খলাতেও জোর দেওয়া হয়েছে। নেতৃত্ব জানিয়েছেন, দলের অন্দরে কোনও রকম কোন্দল বরদাস্ত করা হবে না।