খড়্গপুর কলেজ

মানসিক চাপ বাড়ছে, ইস্তফার ইচ্ছা অধ্যক্ষের

সাত মাস আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। পরিপ্রেক্ষিত হিসাবে উঠে এসেছিল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কলেজের ছাত্র সংঘর্ষ। এ বার কলেজে নিযুক্ত হওয়ার দু’মাসের মাথায় মানসিক চাপের কথা বলে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কলেজের স্থায়ী অধ্যক্ষ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:১৩
Share:

সাত মাস আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। পরিপ্রেক্ষিত হিসাবে উঠে এসেছিল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কলেজের ছাত্র সংঘর্ষ। এ বার কলেজে নিযুক্ত হওয়ার দু’মাসের মাথায় মানসিক চাপের কথা বলে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কলেজের স্থায়ী অধ্যক্ষ। আর এ বারেও অধ্যক্ষের ইস্তফার পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠী বিবাদ পিছু ছাড়ল না। খড়্গপুর কলেজের ঘটনা।

Advertisement

সম্প্রতি এই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতির কাছ চিঠি পাঠিয়ে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন অধ্যক্ষ নির্মলকুমার হাজরা। অবশ্য এই ইস্তফার কারণ হিসাবে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার কথাই বলেছেন। আগামী সোমবার বিষয়টি নিয়ে কলেজ পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে এই ঘটনার পিছনেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যথেষ্ট প্রকট। এই কলেজের ছাত্র সংসদ টিএমসিপির দখলে। শহর টিএমসিপির দুই নেতা রাজা সরকার ও হায়দার আলির বিরোধের আঁচ পড়েছে কলেজেও। কলেজের সভাপতি তথা তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি নির্মল ঘোষ আবার রাজা সরকার বিরোধী গোষ্ঠীর। ফলে গোলমাল চরম আকার নিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা আর সেই বিরোধে মাঝে পড়েই অধ্যক্ষের মানসিক চাপ বাড়ছে।

Advertisement

শনিবার এ বিষয়ে অধ্যক্ষ নির্মলকুমার হাজরা বলেন, “গত বছর একটি দুর্ঘটনার পর থেকে স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছিলাম। এই কলেজে যোগ দেওয়ার পরে নতুন করে অসুস্থতা বেড়েছে। আসলে মানসিক চাপ বাড়ার ফলেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।” সেই মানসিক চাপের পিছনে কি রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে? অধ্যক্ষের জবাব, “এটা ঠিক আমাদের কলেজে ছাত্রদের দু’টি গোষ্ঠী রয়েছে। ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের একটা তো চাপ ছিলই। আমার অসুস্থতার পিছনে এটা একমাত্র কারণ নয় বটে, তবে একটা প্রভাব তো পড়ছেই।’’

খড়্গপুর কলেজে টিএমসিপির গোষ্ঠী কোন্দল নতুন ঘটনা নয়। মূলত শহর তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী ও জেলা নেতা জহরলাল পালের সম্পর্কের অবনতিতে টিএমসিপির অন্দরে কোন্দল বাড়ছে। গত এক বছরে দেবাশিস ‘ঘনিষ্ঠ’ ছাত্র নেতা রাজা সরকার ও জহরলাল ‘ঘনিষ্ঠ’ ছাত্র নেতা হায়দার আলির বিরোধ চরমে উঠেছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর। পরের দিনই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দেন অচিন্ত্যকুমার চট্টোপাধ্যায়। গত ৭জুলাই কলেজের হোস্টেলের মাঠে কৌটো বোমা ফেটে জখম হন তিনজন। পুলিশের ধারণা, কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন গোলমাল বাধানোর চেষ্টায় কেউ ওই বোমা রেখেছিল। এর পরেই আটক করা হয় টিএমসিপির শহর সভাপতি রাজা সরকারকে। এর পরই শহর সভাপতি পদ থেকে রাজাকে বহিষ্কার করেন টিএমসিপির জেলা সভাপতি।

২ জুলাই কলেজের এগরা কলেজ থেকে এসে স্থায়ী অধ্যক্ষের পদে যোগ দেন নির্মলকুমার হাজরা। আগে তিনি এই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন। কৌশল্যা এলাকারই বাসিন্দা তিনি। ফলে তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি নির্মল ঘোষের সঙ্গেও পূর্ব পরিচিতি রয়েছে তাঁর।

এপ্রিলে কলেজের সভাপতি পদে নির্মল ঘোষ নির্বাচিত হওয়া এবং তারপরেই নির্মলকুমার হাজরার অধ্যক্ষ পদে যোগ দেওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছিলই। পাশাপাশি পরিচালন সমিতি থেকে তৃণমূলের শহর সভাপতি দেবাশিস চৌধুরীর নাম বাদ যাওয়ায় দেবাশিস ঘনিষ্ঠ রাজা সরকারের ক্ষোভ বাড়ছিলই। এই পরিস্থিতিতে রাজা ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষের উপরে চাপ বাড়িয়ে হায়দার কলেজ থেকে আলিকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন। কলেজের নানা আর্থিক দুর্নীতি নিয়েও সরব হয়েছেন তাঁরা। যদিও অধ্যক্ষ ও কলেজ সভাপতি সেই দাবিকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না।

কিন্তু এ বার নিজেই ইস্তফাপত্র সভাপতির কাছে জমা দিয়েছেন অধ্যক্ষ। যদিও টিএমসিপি নেতা রাজা সরকার বলেন, “শুনেছি কলেজের অধ্যক্ষ অসুস্থ। তাই উনি ইস্তফা দেবেন।” তবে কলেজের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। কলেজের সাধারণ সম্পাদক সানি দত্ত বলেন, “কলেজের সভাপতি বদলের পর থেকেই আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে নীরবতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষককে মারধর, ছাত্রীদের কটূক্তি, কুপ্রস্তাবে যুক্ত হায়দার আলিকে বহিষ্কারের নৈতিক দাবি তুলেছে আমাদের ছাত্ররা। কিন্তু সভাপতি ও অধ্যক্ষ ওই ছাত্রকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদ আমরা করছি।”

নির্মল ঘোষ অবশ্য বলেন, “প্রতিটি কলেজেই ছাত্র ভর্তি-সহ নানা বিষয়ে একটা গোলমাল থাকে। এটা ঠিক আমাদের কলেজে ছাত্রদের দু’টি গোষ্ঠী রয়েছে। বিরোধ মেটাতে আমি ইতিমধ্যেই শহর তৃণমূল সভাপতিকে সমস্ত পক্ষ নিয়ে বসতে অনুরোধ করেছি। আশা করছি সমস্যা মিটে যাবে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement