গত ছ’মাস ধরে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে মিলছে না বিএসএনএল-এর মোবাইলের মাইক্রো সিম কার্ড। অথচ পরিষেবা কেন্দ্রের বাইরে পানের দোকানে দেদার বিকোচ্ছে সিম কার্ড। বাধ্য হয়ে সংস্থা নির্ধারিত দামের থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে সিম কার্ড কিনছেনও অনেকে। বিএসএনএল-এর খড়্গপুর টেলিকম ডিভিশনের সদর দফতর খড়্গপুর গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে সিম কার্ড না মেলায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। প্রশ্ন উঠছে, এই ঘটনার পিছনে কি কোনও দালাল চক্র সক্রিয়? যদিও বিএসএনএল আধিকারিকদের দাবি, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সিম কার্ড বণ্টন করা হয়।
মোবাইলের হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক বিভিন্ন সংস্থা বর্তমানে আধুনিক ত্রি জি ও ফোর জি প্রযুক্তির মোবাইল সেট বাজারে এনেছে। বাজারে আসা নতুন মোবাইলের অধিকাংশেই বর্তমানে মাইক্রো সিম কার্ড লাগাতে হয়। সাধারণ সিমকার্ড এই ফোনগুলিতে ব্যবহার করা যায় না। নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি পুরনো সিমকার্ড বদলে নতুন সিমকার্ড নিতে চান, তাহলে তাকে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে আবেদন করতে হবে। একমাত্র পুরনো সিম কার্ড জমা দিলে তবেই সে নতুন মাইক্রো সিম কার্ড পেতে পারে। সাধারণত নতুন সিমকার্ড পাওয়ার ঘণ্টা দু’য়েক পর পরিষেবা চালু হয়। তবে মাইক্রো সিম না মেলায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। সেই সুযোগে ‘সিম কাটার’-এ পুরনো বড় সিম কার্ড কেটে মাইক্রো (ছোট) সিমকার্ড তৈরির ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন মোবাইল দোকানগুলি। সিম কাটার-এ সিমকার্ড কাটতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রেই কেটে যাচ্ছে কার্ডের সিরিয়াল নম্বর। অনেকক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে সিমকার্ডের চিপেরও।
গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্রাহকদের অভিযোগ, মাইক্রো সিমকার্ড নিতে গেলেই পরিষেবা কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে, সিমকার্ডের সরবারহ নেই। পনেরো দিন বা একমাস পরে গ্রাহকদের যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। অথচ পরিষেবা কেন্দ্রের বাইরে মোবাইলের দোকানে গিয়ে ভোটার কার্ডের প্রতিলিপি দিয়ে সহজেই মিলছে মাইক্রো সিম কার্ড। গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র থেকে যেখানে ৫৯ টাকা জমা দিয়েই সিম কার্ড পাওয়া যায়, সেখানে মোবাইলের দোকানগুলি থেকে ১৩০-২০০ টাকা দিয়ে মাইক্রো সিম কার্ড কিনতে হচ্ছে।
অভিযোগ, গত কয়েকমাস ধরেই রেলশহরের বোগদায় গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র থেকে এ ভাবেই সিমকার্ড বিক্রি চলছে। বোগদায় রেল স্টেশনের ঠিক উল্টো দিকের এক দোকানি বলছিলেন, ‘‘১৫০টাকার কমে বিএসএনএল-এর মাইক্রো সিম দিতে পারব না। কারণ আমাদের অফিস থেকে বেশি দাম দিয়ে সিমকার্ড কিনতে হচ্ছে।” খড়্গপুরের মালঞ্চ এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি সংস্থার কর্মী অমিত হালদারের কথায়, ‘‘মোবাইল কেনার পরে তিন দিন ধরে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে ঘুরেছি। কিন্তু মাইক্রো সিমকার্ড পাইনি। পরিষেবা কেন্দ্র থেকে তিন মাস পরে খোঁজ নিতে বলা হয়। অথচ বাজারে চড়া দামে মাইক্রো সিমকার্ড দেদার বিকোচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাধ্য হয়ে কোনও রকমে পুরনো সিমকার্ড দোকান থেকে কাটিয়ে ব্যবহার করছি।’’ অমিতবাবুর প্রশ্ন, “বিএসএনএল-এর নিজস্ব অফিস থেকে সিমকার্ড পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অতিরক্ত টাকা দিলেই কী ভাবে বাইরের দোকানদাররা মাইক্রো সিমকার্ড দিচ্ছে সেটাই ভাবতে অবাক লাগছে।’’
বিএসএনএল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ছ’মাস ধরে কলকাতা থেকে খড়্গপুর ডিভিশনে থ্রি-জি প্রযুক্তির মাইক্রো সিমকার্ড আসছে না। তবে প্রতি মাসেই কলকাতা অফিস থেকে টু-জি প্রযুক্তির মাইক্রো সিমকার্ড আসছে। অবশ্য থ্রি জি প্রযুক্তির মোবাইলে টু জি প্রযুক্তির ইন্টারনেটের সুবিধা পাওয়া যায়। বিএসএনএলের খড়্গপুর ডিভিশনের আওতায় ১৭টি গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র রয়েছে। আর এই টেলিকম সংস্থার ফ্রাঞ্চাইজি পয়েন্ট রয়েছে সাতটি। প্রায় প্রতি মাসের শুরুতেই প্রতিটি ফ্রাঞ্চাইজিকে ৪০টি করে মাইক্রো সিমকার্ড ও গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে ১০-১২টি করে মাইক্রো সিমকার্ড দেওয়া হচ্ছে।
গত ৬ জুলাই খড়্গপুর গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে দশটি মাইক্রো সিমকার্ড দেওয়া হয়েছিল। খাতায় কলমে দশটি সিমকার্ডই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তাই সংস্থার খড়্গপুর টেলিকম ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) অমৃতলাল খাটুয়া বলেন, “প্রয়োজনের তুলনায় মাইক্রো সিমকার্ড কম আসায় দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া কলকাতা থেকে থ্রি-জি সিমও আসছে না। টু-জি সিম এলেও সেগুলি নিয়ম মেনেই বণ্টন করা হচ্ছে।”
প্রশ্ন উঠছে, গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের বাইরের দোকানে কী ভাবে অতিরিক্ত টাকায় সিম পাওয়া যাচ্ছে?
অমৃতলালবাবুর জবাব, “আমরা ফ্রাঞ্চাইজিকে সিম দিয়ে থাকি। তাই বাইরে সিম বিক্রি হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত দামের বিষয়টি আমাদের নজরে নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলিকে সতর্ক করব।’’