অনেক বাছবিচার করেই দলীয় সদস্য পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাতেও দলের বহর বাড়ছে তরতর করে। দেখা যাচ্ছে, লোকসভা নির্বাচনে সাফল্যের পরে গত এক মাসে পশ্চিম মেদিনীপুরে বিজেপির সদস্য সংখ্যা বাড়ল ৩২০০ জন। কাল, রবিবার জেলায় আসছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ। দলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায়ের দাবি, “ওই দিন আরও ৫ হাজার মানুষ দলে যোগ দেবেন। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন দলের নেতার পাশাপাশি নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যরাও থাকবেন।” বিজেপি সূত্রের খবর, দলবদল করার কথা পিংলার কুসুমদা গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্দল সদস্য জয়দেব গায়েন ও লক্ষ্মীরানি হেমব্রমের।
দলে সদস্য টানার পাশাপাশি বিভিন্ন শাখা সংগঠনকে চাঙ্গা করতেও উদ্যোগী হচ্ছে বিজেপি। একটা সময় প্রায় প্রতিটি কলেজেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) ইউনিট ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন এ রাজ্যে বিজেপি-র রাজনৈতিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীরা এবিভিপি-র কথা ভুলতেই বসেছিলেন। অথচ, কোনও রাজনৈতিক দলের বাড়বাড়ন্তে ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবিভিপি সরাসরি বিজেপি-র হাতে নেই, রয়েছে আরএসএসের হাতে। ছাত্র সংগঠনকে চাঙ্গা করতে আরএসএসের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন। তুষারবাবু বলেন, “ছাত্র রাজনীতি থেকে একটা বড় অংশ মূল রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তাই এই সংগঠনের উপর যাতে নজর দেওয়া হয় সে জন্য আরএসএসের সঙ্গে আমাদের কথাও হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন দায়িত্বশীল সদস্যকে আমরা ব্লক কমিটি ও জেলা কমিটিতেও নেবো।”
শ্রমিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে শুরু করে সব ধরনের শাখা সংগঠনকে বাড়াতেই তৎপর বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, সবে একমাস হল লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। দেশ জুড়ে সাফল্যের পর এখন সকলেই বিজেপিতে আসতে চাইছেন। কিন্তু যাতে দল ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বুঝেই দলের সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন তারা। বিশেষত, ভারতীয় মজদুর মহাসঙ্ঘের ক্ষেত্রে তো নয়ই। তুষারবাবুর কথায়, “শিল্পের ব্যাপারে আমাদের দলের একটি নীতি রয়েছে। সেই দলীয় নীতি মেনে যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, শিল্প স্বার্থে হোক বা শ্রমিক স্বার্থে, যে কোনও আন্দোলন করতে হলে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে যাঁরা করতে চাইবেন, তাঁদেরই আমরা নিজেদের সংগঠনে নেব।” প্রতিটি দিকেই যে বিজেপি নজর রাখছে ও দল বাড়াতে পদক্ষেপ করছে, তা অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে সবার আগে দলের লক্ষ্য রবিবারের সভা। যে সভায় লোকসভা নির্বাচনের পর দলে যোগ দেওয়া নতুন সদস্যরা যেমন থাকবেন, তেমনি থাকবেন যাঁরা এদিনই দলে যোগ দিতে চান। যেখানে সিপিএম, সিপিআই থেকে শুরু করে বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের থাকার কথা। এমনকী সিপিএমের প্রাক্তন জেলা পরিষদের সভাধিপতি অন্তরা ভট্টাচার্য, সিপিআইয়ের শ্রমিক নেতা অশোক সেনাপতি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বামফ্রন্টের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যদেরও থাকার কথা।
বিজেপি নেতৃত্বের আশা, যে ভাবে মানুষের ঢল বিজেপি-র দিকে নামছে তাতে আগামি ৬ মাসে সদস্য সংখ্যা ৪৫ হাজার থেকে বেড়ে লক্ষাধিক হয়ে যাবে। সদস্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে সমর্থকও। তুষারবাবুর কথায়, “মূল সংগঠনের পাশাপাশি প্রতিটি শাখা সংগঠনের বৃদ্ধির মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”