মেদিনীপুরে বন্ধ সুতোকল।
বন্ধ সুতোকল চালুর দাবিতে জোরদার আন্দোলনে নামার কথা ঘোষণা করল তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন (আইএনটিটিইউসি)। বৃহস্পতিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনাকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তার আগে ওই সুতোকলের শ্রমিকেরা মিছিল করে জেলাশাসকের দফতরের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখান। আইএনটিটিইউসি নেতা শশধর পলমল বলেন, “সাত মাস হল মিল বন্ধ। আমরা সাত দিনের মধ্যে মিল খোলার দাবি জানিয়েছি। ৭২ ঘন্টার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছি।” দাবিপূরণ না হলে বড় মাপের আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই আইএনটিটিইউসি নেতা।
শ্রমিকেরা মিছিল করে জেলাশাসকের দফতরের সামনে আসার পর শশধরবাবু হাতে মাইক্রোফোন ধরে জানিয়ে দেন, “মনে রাখবেন, আমরা যে দলটা করি, তার নাম তৃণমূল। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও বিশৃঙ্খলা হবে না, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হবে।” শ্রমিকদের কাছে তাঁর অনুরোধ ছিল, “আপনারা কোনও রকম প্ররোচনায় প্রভাবিত হবেন না।” মিছিল থেকে প্রশাসন-বিরোধী স্লোগান ওঠে। বলা হয় প্রশাসন অপদার্থ।
সরকারে তো ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূলই? তাহলে? এ ক্ষেত্রে দলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা শশধরবাবুর বক্তব্য, “বাম আমলেই মিল বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল।”
জেলাশাসকের দফতরের সামনে আইএনটিটিইউসি-র জমায়েত।
মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়ায় ‘কেশর মাল্টিয়ার্ন মিল লিমিটেড’ নামে এই সুতোকলটি গড়ে ওঠে ১৯৬৪ সালে। পরে মালিকানা বদল হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে এই সুতোকল। এখানে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ৮০০ জন। সকলেই এখন কাজহারা। বন্ধ এই কারখানা খোলার জন্য কখনও কলকাতায়, কখনও খড়্গপুরে শ্রম দফতরের আধিকারিকেরা দ্বিপাক্ষিক-ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। তবে সমস্যার সমাধান হয়নি।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ‘সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক’-এর নোটিস ঝোলানোর পর দফায় দফায় আন্দোলন করেছেন শ্রমিকেরা। বন্ধ সুতোকল চালুর দাবিতে বুধবার মেদিনীপুর শহরে মিছিল করেছিলেন সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু। সিটু নেতা সারদা চক্রবর্তী বলেন, “মেদিনীপুর-খড়্গপুরেও একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। শ্রমিকেরা কাজ হারাচ্ছেন। অথচ, রাজ্য সরকারের ভ্রুক্ষেপ নেই।”
কারখানা খোলার দাবিতে এ দিন পথে নামে আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত ওই মিলের শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমিকদের নিয়ে জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়। পরে স্মারকলিপি পেশ করে জেলাশাসকের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। ১) সাত দিনের মধ্যে মিল খুলতে হবে, ২) ৭২ ঘন্টার মধ্যে মালিকের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ৩) শ্রমিকদের অর্ধেক বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শশধরবাবুর আরও দাবি, মিল বন্ধের পর থেকে পাঁচ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, ১১ জন অসুখে ভুগছেন।
—নিজস্ব চিত্র।