জেলা জুড়ে শীঘ্রই এক লপ্তে ৮০০টিরও বেশি অটো চালুর অনুমতি দিল জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে সবথেকে বেশি অটো নামবে মেদিনীপুর (সদর) মহকুমায়, প্রায় ৫০০টি। খড়্গপুরে প্রায় ২০০টি। ঘাটালে প্রায় ১০০টি এবং ঝাড়গ্রাম মহকুমায় প্রায় ৫০টি। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেন, “শহরতলির সঙ্গে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সব রকম চেষ্টা চলছে। নতুন করে এই সংখ্যক অটো পথে নামলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিই হবে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় এখন সব মিলিয়ে প্রায় ৯০০টি অটো চলাচল করে। আর এখন নতুন ৮০০ অটোর অনুমোদন মেলায় পশ্চিম মেদিনীপুরে অটোর সংখ্যা দাঁড়াবে ১,৭০০। নতুন করে অটোর পারমিট দেওয়ার ব্যাপারে আরটিএ’র বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মাস কয়েক আগে এই মিটিং হয়। সেই মতো ইচ্ছুকদের কাছ থেকে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। সম্প্রতি সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে নতুন করে ৮০০টিরও বেশি অটোর রুট পারমিট দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, সব মিলিয়ে ১,২২৪ টি রুট পারমিটের আবেদনপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ৮২৬টি রুট পারমিট মঞ্জুর হয়েছে। অর্থাত্, জেলায় নতুন করে ৮২৬টি অটো নামবে। এর মধ্যে মেদিনীপুর (সদর) মহকুমায় ৪৯৬টি, খড়্গপুরে ১৮৪টি, ঘাটালে ১০০টি এবং ঝাড়গ্রামে ৪৬টি। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামে বেশ কিছু সংখ্যক ছোট গাড়ি (ম্যাক্সিক্যাব) চালুর অনুমতি দেওয়ার ভাবনা রয়েছে জেলা প্রশাসনের। যেখানে ৮-১২ জন বসতে পারেন। তাই ওই মহকুমায় তুলনায় কম সংখ্যক অটো চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কেন একলপ্তে এত সংখ্যক অটো চালুর অনুমতি দেওয়া হল? জেলা প্রশাসনের এক সূত্রের দাবি, এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অবস্থান খুব স্পষ্ট। সরকার চাইছে, ছোট গাড়ির মাধ্যমে শহরতলি এবং তার আশপাশ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হোক। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হোক। শহরতলির সব রাস্তার হাল ভাল নয়। ফলে, আশপাশের যাতায়াতের ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষ চরম সমস্যায় পড়ছেন। অন্যত্র যাতায়াতের জন্য ছোট গাড়ির উপর ভরসা করতে হয়। ফলে এই নতুন অটো চালু হলে যাতায়াতের সমস্যা কিছুটা মিটবে বলেই আশা জেলা প্রশাসনের। জেলা পরিবহণ দফতরের সরকার মনোনীত সদস্য প্রদ্যোত্ ঘোষ বলেন, “শহরতলিতে এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে বাস চলে না। অথচ, ওই সব এলাকার প্রচুর মানুষ নানা কাজে প্রায়শই শহরে আসেন। নতুন করে এই সংখ্যক অটো নামলে প্রচুর মানুষ উপকৃত হবেন।”
কিন্তু শহর-শহরতলিতে অটো দৌরাত্ম্য নতুন কিছু নয়। নতুন করে এই সংখ্যক অটো পথে নামলে ওই দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। এক-একটি অটোতে যেখানে ৪ জন বসার কথা, সেখানে বেশির ভাগ সময় ৮-১০ জন যাত্রী না হলে স্ট্যাণ্ড থেকে অটো ছাড়েই না। অনেক অটো বেপোরোয়া ভাবে চলাচল করে। শহরে যানজটের সমস্যাও রয়েছে। ফলে নতু এতগুলো অটো সেই যানজট আরও বাড়াবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ এবং পরিবহণ দফতরের অবশ্য আশ্বাস, নিয়ম না মেনে অটো চালালে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। অটো দৌরাত্ম্য বন্ধে নজরদারি আরও বাড়ানোরও আশ্বাস মিলেছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, “নজরদারি চলেই। যে সব চালক নিয়ম ভাঙেন, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়। প্রয়োজনে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।”