Gumbadara

পাহাড়ের উপর দুধসাদা বৌদ্ধ মঠ রয়েছে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের অগোচরে, কী ভাবে যাবেন?

পাহাড়ের উপর খেলার মাঠ। সংলগ্ন ঢেউ খেলানো জমিতে বৌদ্ধ মঠ। কালিম্পঙের আনাচ-কানাচ ঘুরতে হলে ঘুরে আসুন গুম্বাদারা মনাস্ট্রি থেকে। আশপাশে আর কী দর্শনীয় আছে?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫
Share:

কালিম্পং বেড়াতে যাবেন? তা হলে ঘুরে আসুন এই বৌদ্ধ মঠ থেকে। ছবি: সংগৃহীত।

পাহাড়ের উপর বিশাল চত্বর। সেই সমতল স্থানেই লম্বা উঠে গিয়েছে দুধসাদা বৌদ্ধ মঠ। এক দিকে পাইনের সারি, অন্য দিকে, পাহাড়ের ধাপে তিব্বতী পড়ুয়াদের খেলার মাঠ। নির্জন কিন্তু নিঃস্তব্ধ নয়। পাহাড়ি শিশুদের কোলাহল, ঠান্ডা হাওয়ার দাপট আর পাখিদের কলকাকলি ভরিয়ে রেখেছে সেই স্থান।

Advertisement

গুম্বাদারা মনাস্ট্রি। —নিজস্ব চিত্র।

দার্জিলিং গিয়েছেন, ঘুরেছেন কালিম্পং। ঘুম মনাস্ট্রি দেখেছেন, লাভার বিশাল মনাস্ট্রিতে ভাললাগা খুঁজে নিয়েছেন, তবে গুম্বাদারার নাম শুনেছেন কি? লাভা-লোলেগাঁও বেড়াতে যান অনেকেই। ঘুরে আসেন রিশপও। মেঘমুক্ত দিনে রিশপ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলে মনে হয়, এই তো হাতের কাছেই।

তবে এই সব কিছুর আড়ালে পাহাড়ের মাথায় নিঃশব্দে তবে সদর্পে বিরাজমান গুম্বাদারা। পাহাড়ের মাথায় সমতল এক স্থানে এর অবস্থান। পাকদণ্ডি পৌঁছে দেয় সেখানে। রাস্তা মসৃণ নয়। তবে গুম্বাদারার কাছে পৌঁছলে এমনিতেই মুছে যায় ক্লান্তি।

Advertisement

বিশাল তোরণ। প্রবেশপথের শুরুতেই এক বড়সড় প্রার্থনাচক্র। আশপাশে তিব্বতী পড়ুয়াদের আবাস। পড়াশোনার ছুটি থাকলে তার খেলা করে মঠ সংলগ্ন মাঠেই। মেঘমুক্ত আকাশে যখন রোদ এসে পড়ে, ঝকমকিয়ে ওঠে সাদা বৌদ্ধ মন্দিরের চূড়ায় বসানো ছোট্ট একটি সোনালি রঙা মূর্তি। এটি দেখতে খানিকটা বড়সড় বৌদ্ধ স্তূপের মতো। দোতলায় বিশাল প্রার্থনাকক্ষ। সেখানেই রয়েছে বিশাল বুদ্ধমূর্তি। অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দিরের মতোই এখানেও রয়েছে দেওয়ালচিত্র। ভীষণই রঙিন সেগুলি।

মনাস্ট্রিতে প্রবেশের পথ। —নিজস্ব চিত্র।

পাহাড়ের উপর উন্মুক্ত প্রান্তরে এমন একটি মঠ নিমেষে মন প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। এই স্থানের সৌন্দর্য শুধু মঠে নয়, রয়েছে প্রকৃতিতেও। আশপাশের শোভা চোখজুড়োনো।

কাফেরগাঁও থেকে যাঁরা লাভা যাচ্ছেন বা লাভা থেকে কাফেরগাঁও, তাঁরা অবশ্যই সাইটসিইংয়ে জুড়তে পারেন এই স্থান। বিশেষত মেঘমুক্ত দিনে এই জায়গাটি দারুণ মনোরম লাগবে।

আর কোথায় কী দেখবেন?

কালিম্পঙের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লাভা থেকে গুম্বাদ্বারা মনাস্ট্রির দূরত্ব সাড়ে সাত কিলোমিটার। রাস্তা গিয়েছে লাভার অরণ্যের মধ্যে দিয়ে। কাফেরগাঁও বা লোলেগাঁও থেকে জায়গাটির দূরত্ব ১৬ কিলোমিটারের মতো। কাছেই রয়েছে নকদ্বারা ভিউ পয়েন্ট। কৃত্রিম একটি জলাশয়কে ঘিরে সাজানো উদ্যান। রয়েছে বোটিংয়ের ব্যবস্থাও। এ ছাড়াও ঘুরে নিতে পারেন লোলেগাঁও পার্ক। লাভাতে ঘুরে নিতে পারেন লাভা মনাস্ট্রিও।

গুম্বাদারা মনাস্ট্রির পাশাপাশি ঘুরে নিতে পারেন গুম্বাদারা ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা খুব ভাল দেখা যায়। তবে মঠ থেকে এই স্থানের দূরত্ব প্রায় ৬৩ কিলোমিটার। গুম্বাদারা ভিউপয়েন্ট তিনচুলের কাছে। লাভা ঘুরে যদি তিনচুলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তা হলে দুই স্থানই দেখা যাবে।

কোথায় থাকবেন?

লাভা সুন্দর, তবে কিছুটা ঘিঞ্জি। প্রচুর দোকানপাট এখানে। তবে যদি নিরালা পরিবেশ চান, চান পাহাড়-মেঘের কানাকানি শুনতে, তবে থেকে যেতে পারেন কাফেরগাঁওয়ে। এখানে একাধিক হোম স্টে রয়েছে। লাভাতে হোটেল, হোম স্টে, দুই-ই পাবেন।

কী ভাবে যাবেন?

হাওড়া অথবা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে নিউ জলপা‌ইগুড়ি কিংবা নিউ মাল জংশনে এসে, সেখান থেকে গাড়িতে চলুন লাভা কিংবা কাফেরগাঁও। ভ্রমণ তালিকায় জুড়ে নিতে পারেন রিশপও।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement