গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
৩৩ বছর আগের ঘটনা নিয়ে বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের কর্মসূচিতে গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে আড়াল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ কাকলির। সেই সঙ্গে তাঁর এ-ও অভিযোগ, ওই বর্বরোচিত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্ত। তিনি মমতার সরকারের আমলে ‘পুরস্কৃত’ হয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কাকলি নির্দিষ্ট কতগুলি দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, নতুন করে তদন্ত শুরু হোক। দ্বিতীয়ত, জ্যোতি বসুর সরকারের আমলে চিহ্নিত দোষী ব্যক্তি, পুলিশ আধিকারিক ও আমলাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারায় চার্জশিট গঠন করুক সরকার। তৃতীয়ত, মমতার জমানায় যে ২১ জুলাই কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তার রিপোর্ট সর্বসমক্ষে আনা হোক। চতুর্থত, দোষী হয়েও যাঁরা পুরস্কৃত হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে। পঞ্চমত, প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থার সাহায্য নিয়ে এই তদন্ত সম্পন্ন করুক রাজ্য সরকার।
প্রসঙ্গত, ৩৩ বছর আগে মমতা ছিলেন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী। সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে মহাকরণ অভিযান ডেকেছিলেন মমতা। সেই কর্মসূচিতেই এসপ্ল্যানেড ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জনের। ঘটনাচক্রে, সেই সময়ে কাকলি ছিলেন মমতার সঙ্গেই। ২০২৬ সালে রাজ্যে পালাবাদলের পরে কাকলির নেতৃত্বেই লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল ভেঙেছে। ২০ জন সাংসদ মিশে গিয়েছেন আনকোরা দল এনসিপিআই-তে। সম্প্রতি নবান্নে গিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন কাকলি। তার পর ২১ জুলাই নিয়ে ‘ফাইল খোলা’র দাবি তুললেন তিনি।
২০১১ সালে মমতা ক্ষমতায় আসার পরে একাধিক কমিশন তৈরি করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ২১ জুলাই কমিশন। যার মাথায় ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। যেখানে হাজিরা দিতে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। সেই সময়ে তিনি ছিলেন জ্যোতিবাবুর মন্ত্রিসভার তথ্যসংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বে। ২০১১ সালের নির্বাচনে যাদবপুরে বুদ্ধদেবকে হারিয়েছিলেন প্রাক্তন আমলা মণীশ। প্রথম মমতার সরকারে তিনিই ছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। পরে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন মমতা। এ বার ২১ জুলাই নিয়ে তৃণমূলের দুই খণ্ড যখন আকচাআকচিতে নেমেছে, সংঘাত গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত, তখন পুরনো ফাইল নতুন করে খোলার দাবি জানালেন কাকলি।