SIR in West Bengal

নিজেই নিজেকে শুনানির নোটিস ধরালেন বিএলও! মুর্শিদাবাদে ‘অবাক এসআইআর’, প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া

আবু ছাড়াও তাঁর বুথে প্রায় ৩০০ জনের কাছে শুনানির নোটিস গিয়েছে। বাদ যাননি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ওসিকুল আলমও। বিএলও হিসাবে ওসিকুলের হাতে নোটিস পৌঁছে দিয়ে এসেছেন আবু।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৩৬
Share:

বিস্মিত বিএলও নোটিস ধরিয়েছেন আরও ৩০০ জনকে। —নিজস্ব ছবি।

এ যেন নিজের দিকেই আয়না ধরা! ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন যিনি, সেই বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-কেই কিনা শুনানির নোটিস পাঠাল নির্বাচন কমিশন! বিএলও হিসাবে নিজেই নিজেকে শুনানির চিঠি ধরিয়েছেন ‘বিস্মিত’ বিএলও। শমসেরগঞ্জের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা মুর্শিদাবাদে। কমিশনের এমন ‘অদ্ভুত’ পদক্ষেপে হতবাক সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তথা বিএলও আবু ওবায়দা বিন জাররাহ।

Advertisement

পেশায় শিক্ষক আবু নিজে শমসেরগঞ্জ ব্লকের চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের ভোটার। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি শিক্ষকতা করছেন সেখানকার একটি স্কুলে। তাঁর দাবি, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে তিনি অভিজ্ঞ। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে যা ঘটল, তাতে চমকে গিয়েছেন ওই বিএলও! তিনি যখন এসআইআরের তথ্য যাচাইয়ের কাজ করছেন, ঠিক সেই সময়েই বিডিও অফিস থেকে তাঁর নামেই শুনানির নোটিস জারি করা হয়।

এসআইআর নোটিস পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিস্মিত বিএলও। তিনিও নাম বাদ-যাওয়া সাধারণ ভোটারদের মতো অভিযোগ করতে থাকেন। আবুর কথায়, “বিএলও হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আমি জমা দিয়েছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকাতেও নাম আছে। সমস্ত প্রমাণ দেওয়ার পরেও কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হল, কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না।’’ তবে নিয়ম মেনে বিডিও অফিসে হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন বিএলও। তার আগে নিজেকে বিশ্বাস করিয়ে নিচ্ছেন যে, ‘হ্যাঁ, আমি নোটিস পেয়েছি’।

Advertisement

আবু ছাড়াও তাঁর বুথে প্রায় ৩০০ জনের কাছে শুনানির নোটিস গিয়েছে। বাদ যাননি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ওসিকুল আলমও। বিএলও হিসাবে ওসিকুলের হাতে নোটিস পৌঁছে দিয়ে এসেছেন আবু। ওসিকুলের দাবি, তাঁর বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকাতেই ছিল। তার পরেও ভুল কোথায় হল!

চাচন্ড এলাকার এই ‘গণ-শুনানি’র নোটিস ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সব নথি থাকা সত্ত্বেও বিএলও বা জনপ্রতিনিধিদের এই ভাবে তলব করা হচ্ছে কেন, তা নিয়ে ব্লক প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কমিশনের বক্তব্যের অপেক্ষায় সকলে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement