— প্রতীকী চিত্র।
আবারও ভিন্রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের। তামিলনাড়ুতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন লালগোলা ব্লকের খলিফাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সমিরুল হক (৩২)। শনিবার এই খবর গ্রামে পৌঁছোতেই শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবার সূত্রে খবর, সমিরুলের তিনটি সন্তান। তাঁর স্ত্রী অসুস্থ। তিনি তামিলনাড়ুতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। শনিবার কাজ করার সময় ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎবাহী তারের সংস্পর্শে আসায় অকালে প্রাণ যায় সমিরুলের। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। মৃত্যুতে কার্যত দিশাহারা তাঁর স্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকার পাশে না দাঁড়ালে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। বাচ্চাগুলির ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেল।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা খলিফাবাদ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জেলায় কাজ নেই। শিল্প নেই। তাই বাধ্য হয়েই পেটের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পাড়ি দিচ্ছে গ্রামের যুবকেরা। আর সেখান থেকে ফিরছে তাঁদের নিথর দেহ।
জেলায় শাসকদলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কেন আজও মুর্শিদাবাদে কর্মসংস্থানের অভাব, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, জেলায় ২০ জন বিধায়ক এবং তিন জন সাংসদ শাসকদলের হওয়া সত্ত্বেও শিল্পায়নে কেন এই খরা? কেন গড়ে উঠছে না কারখানা? ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যদি জেলায় কলকারখানা থাকত, তবে কি সমিরুলদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিন্রাজ্যে ছুটতে হত? এই ধারাবাহিক মৃত্যুর মিছিল থামাতে প্রশাসনের অবিলম্বে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় স্তরে স্থায়ী কর্মসংস্থান না হলে মুর্শিদাবাদের মাটি এ ভাবেই পরিযায়ী শ্রমিকের কান্নায় ভারী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন জেলার সাধারণ মানুষ।