জখম: হাসাপাতালে এক জখম এক যাত্রী। নিজস্ব চিত্র
বিদেশে চাকরি করে পরিবারে সুখ আনতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সেই চাকরির ইন্টারভিউ দিতে করিমপুর থেকে বারাসতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু, পথেই বিপত্তি ঘটল। শান্তিপুরে পথ-দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দু’জনের। সোমবার সকালের ঘটনা।
এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ছ’জন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন, করিমপুরের রামকৃষ্ণপুরের বাসিন্দা সুজিত বিশ্বাস (৩৫) এবং মুরুটিয়ার মথুরাপুরের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল (৩৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ভোরে করিমপুর এলাকা থেকে সাত জন একটি টাটা সুমো গাড়িতে করে বারাসতের ময়নায় যাচ্ছিলেন। কাতারের একটি সংস্থায় চাকরির জন্য সেখানে এ দিন ইন্টারভিউ হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিপুরের উদয়পুরের কাছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে উল্টো দিক দিয়ে আসা একটি লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চালক সুজিত বিশ্বাসের। স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধার কাজে হাত লাগান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে মৃত্যু হয় মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের। বাকিদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, টাটা সুমোটি তীব্র গতিতে যাচ্ছিল। সামনের একটি লরিকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা এলপিজি সিলিন্ডার বোঝাই লরির সামনে পড়ে যায়। পুলিশ লরিটিকে আটক করলেও চালক পলাতক।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাত জন যাত্রীই কাতারে কাজ করতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাদের ভিসাও হয়ে গিয়েছে। এর আগেও তাঁরা ওই সংস্থায় কাজের জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন। এদিনের ইন্টারভিউয়ের পরে তাঁদের চাকরি পাকা হওয়ার কথা ছিল।
মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল দিনমজুরের কাজ করতেন। বাড়িতে সন্তান সম্ভবা স্ত্রী রয়েছেন। দু’বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। বলেছিলেন, ‘‘কাতারে গিয়ে অনেক টাকা রোজগার করে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাবো।’’ তার জন্য ধার-দেনা করে টাকাও জোগাড় করে ফেলেছিলেন। মৃত্যুঞ্জয়ের বোনের স্বামী পিযূশ মণ্ডল বলেন, “স্ত্রী সন্তানকে কি ভাবে একটু ভালো রাখা যায় তারই চিন্তা করত মানুষটা। তাইতো বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পুরো পরিবারটাই এ বার ভেসে গেল।”