—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে জোট না হওয়ায় দুই দলের কর্মীদের মধ্যেই উদ্বেগ ও হতাশা ক্রমশ চেপে বসছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এতে অনেকটাই স্বস্তিতে তৃণমূল ও বিজেপি। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলায় ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০টি রয়েছে তৃণমূলের দখলে, ২টি বিজেপির। লোকসভার ফলের নিরিখে ৪টিতে কংগ্রেস, ১টিতে সিপিএম এবং ৩টিতে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।
তাই সামনের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দল কংগ্রেস ও সিপিএম কর্মীরা যখন জোট বেঁধে তৃণমূল ও বিজেপিকে উৎখাতে আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন তখনই দুই দলই স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন জোট না বাঁধার কথা। আর এতেই রাজনৈতিক অঙ্কে অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএম। এমনকি হুমায়ুন কবীর , মিম, আইএসএফ-সহ অন্য ছোট দলগুলি যেটুকুই প্রভাব ফেলুক না কেন তাতে ক্ষতি হবে তৃণমূলের চেয়ে বিরোধীদেরই বেশি।
ভোট ভাগাভাগির এই অঙ্কে অবশ্য অনেকটাই আশার আলো দেখছে বিজেপি এ জেলায়। তাদের লক্ষ্য জেলায় ৮টি আসন দখলের। মুর্শিদাবাদে সামগ্রিক ভাবে ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু। সংখ্যালঘু ভোটের বিভাজনই ভরসা বিজেপির।সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সোমনাথ সিংহরায় বলছেন, “দু’দলেরই কর্মীরা চাইছিল জোট। সাধারণ মানুষও এটা চাইছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা সম্ভব না হওয়াটা ক্ষতিকারক তো বটেই। তবু কয়েকটি দলের সঙ্গে জোটের চেষ্টা চলছে। লড়াই করার চেষ্টা করব। তবে জোট হলে লড়াইটা সহজ হত।”
জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত দাস বলেন, “প্রদেশ কংগ্রেস ঘোষণা করেছে একা লড়বে। মুর্শিদাবাদ তো রাজ্যেরই একটি জেলা। জোট করে অতীতের সফলতা, বর্তমান বাস্তবতা এবং দলীয় নির্দেশ মেনেই তো চলতে হবে? তাতে ইচ্ছা থাক বা না থাক। তবে আগের চেয়ে দলের অবস্থা অনেক ভাল এ জেলায়।”
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুজিত দাস বলেন, “দুটি বড় দল ও একাধিক ছোট ছোট দলে জোট না হলে একটি অংশের ভোটের বিভাজন তো নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য জেলায় ৮টি আসন। মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, বড়ঞা, জঙ্গিপুর, সুতি, খড়গ্রাম ও নবগ্রাম, কান্দি। এই আসনগুলিতে লোকসভার নিরিখে ৩০ শতাংশ ভোট রয়েছে দলের। জঙ্গিপুরে তা ৩৫ শতাংশ, বড়ঞায় তা ৩৬ শতাংশ, বহরমপুরে ৩৬ শতাংশ, মুর্শিদাবাদে ৪১ শতাংশ, কান্দিতে ২৬ শতাংশ। বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হলে ভাল হবে। কংগ্রেস বা সিপিএম জোটের যে ভোট লোকসভায় পেয়েছিল সরাসরি দু’ভাগ হয়ে যাবে।”
লালগোলায় লোকসভায় কংগ্রেস প্রায় ১৪ হাজারে এগিয়েছিল। ১২টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৯টি কংগ্রেস ও সিপিএম জোটের দখলে। পঞ্চায়েত সমিতিতেও জোট। সেখানকার কংগ্রেস সভাপতি যদুরাম ঘোষ বলেন, “জোট না হওয়ায় প্রচণ্ড ক্ষতি হবে দুই দলেরই। জোট হলে নিশ্চিত আসন ছিল লালগোলা। না হলে লড়াইটা কঠিন। তৃণমূল একটা আঞ্চলিক দল। তাদের পক্ষে বিজেপিকে ঠেকানো অসম্ভব। ভারতের যেখানে যাবেন কংগ্রেসকে পাবেন।”
তৃণমূলের জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান মনে করছেন, “জোট হোক বা না হোক তৃণমূলকে মুর্শিদাবাদে হারানো সম্ভব নয়। ভোট করে সংগঠন ও দলের কর্মীরা। এ জেলায় তৃণমূলের ধারে কাছে নেই বিরোধীরা। তবে মুখে জোট হবে না বললেও হতে পারে কংগ্রেসের আসনে বামেরা, সিপিএমের আসনে কংগ্রেস প্রার্থীই দিল না। অলিখিত জোট করল তারা। অতীতে এমন নজির আছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে