—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
নির্বাচন আসতেই কংগ্রেস ও তৃণমূলের অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম বহরমপুর। জেলা কংগ্রেসের অভিযোগ, বহরমপুরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁদের সক্রিয় কর্মী জিতেন সাহাকে মারধর করেছেন ও হুমকি দিয়েছেন তৃণমূলের বহরমপুর বিধানসভার প্রার্থী তথা পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। অন্য দিকে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা স্বরূপ দাস জিতেনের বিরুদ্ধে নাড়ুগোপালকে শারীরিক নিগ্রহের চেষ্টা এবং গালিগালাজের অভিযোগ করেছেন। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানার পাশাপাশি জেলা পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে।
কংগ্রেসের ওই কর্মীকে মঙ্গলবার রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বুধবার দুপুর কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। বুধবার মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন বলেন, ‘‘অভিযোগের তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’
জিতেনের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার সময়ে তিনি একটি দোকানে চা খাচ্ছিলেন। সে সময় নাড়ুগোপাল তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি জানতে পারার পরে মঙ্গলবার রাতেই জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁর বাড়িতে যান। পুলিশ প্রশাসনের কাছে এবং নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘আমাদের মিছিল শেষে আমাদের দলের কর্মী জিতেন সাহা যখন পরিবারের লোকজনের বাড়ি ফিরছিলেন তখন তৃণমূল প্রার্থী গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে মারধর করেন। রাতে বাড়ি পৌঁছনোর পরে গুরুতর অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর তাঁর বাড়ির দরজায় ধাক্কা দিয়েছে। তাঁর পরিবারের চাকরি খেয়েছে। তার পরে অত্যাচার। কারণ তিনি কংগ্রেস করেন। এই শহরের প্রথম নাগরিক পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাস করছে। আমরা নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি করছি।’’ অধীর বলেছেন, ‘‘আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছি। তারপরে আমরাও বাহিনী নামাব দরকার হলে।’’
কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র চরণ সিংহ সাপরা এ দিন বহরমপুরে বলেন, ‘‘আমি এখানে এসে জানতে পারলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুণ্ডারাজ চলছে। যার একটি উদাহরণ বহরমপুরে কংগ্রেস কর্মী জিতেন সাহাকে জনসমক্ষে পুলিশের সামনে পেটানো। পুরপ্রধান এ ভাবে হামলা করলে এটা প্রকাশ্যে গুন্ডাগিরি ছাড়া আর কী? দ্রুত পদক্ষেপ করা দরকার।’’
নাড়ুগোপাল কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘‘জিতেন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। ও অধীর চৌধুরীর মার্ডার সিন্ডিকেটের লোক। ওর নামে বহরমপুর থানায় একাধিক খুনের অভিযোগে মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আমি যখন ভোটের প্রচার করতে তেলগড়িয়া ধারে একটি চা দোকানের সামনে পৌঁছই তখন জিতেন আমাকে শারীরিক নিগ্রহের চেষ্টা করে, গালিগালাজ করে। তার পিছনে আরও ৩০-৪০ জন ছিল। বিষয়টি এড়িয়ে চলে আসি। পরে আমাদের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। আমাদের ওয়ার্ড সভাপতি লিখিতভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে