Adhir Chowdhury on Mamata Banerjee

‘একই খেলা চলছে, রেফারি-আম্পায়ার বদলেছে’! মমতাকে খোঁচা দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের জন্য দরজা খুললেন অধীর

দলের ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সঙ্কটকালে মমতাকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। বার্তা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ২০:০৩
Share:

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধীর চৌধুরী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা ভোটের ঘোষণার এক মাসের মধ্যে ভাঙনের মুখে তৃণমূল। সেই দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। পাশে পেয়েছেন ৫৮ তৃণমূল বিধায়ককে। এমন অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার খোঁচা দিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি জানালেন, ঘাসফুলের ‘নিচুতলার’ নেতাকর্মীদের জন্য হাতশিবিরের দরজা খোলা।

Advertisement

ভোটের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ করেছিলেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী। তাঁর অভিযোগ ছিল, আগে ভাগে ফোন করে নানা রকম প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে তাঁর দলের প্রার্থীদের।

কিন্তু নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হতেই টানাপড়েনে সেই তৃণমূল। একের পর এক নেতা ‘বেসুরো’ হচ্ছেন। তাঁদের সিংহভাগ নেতা অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অধীরের বার্তা, “যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী রয়েছেন, যাঁরা দলের জন্য বুথে বুথে ভোট করেছেন, মার খেয়েছেন এবং এখনও তৃণমূলকে ভালবাসেন, তাঁদের বলছি, আপনাদের জন্য কংগ্রেসের দরজা সবসময় খোলা।” মঙ্গলবার বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠকে অধীর এ-ও বলেন, “আপনারা আসুন। আলোচনা করে আমরা আগামিদিনে বিজেপি এবং তথাকথিত তৃণমূলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলব। বাংলায় বাকি বিরোধী দলগুলিকে একজোট করে একটা মঞ্চ তৈরি করে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। না হলে বাংলায় সুস্থ রাজনীতি বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”

Advertisement

সম্প্রতি ঠিক একই কথা শোনা গিয়েছে মমতার গলায়। তৃণমূলনেত্রীর আহ্বান ছিল, ‘ইগো’ বাদ দিয়ে বিজেপি বিরোধিতায় তৃণমূলের হাত শক্ত করুক বাকি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। ‘অতিবামেও’ তাঁর আপত্তি নেই। এখন মমতাকে খোঁচা দিয়ে অধীরের মন্তব্য, ‘‘যে দলবদলের খেলা একদিন আপনারা শুরু করেছিলেন, যার আম্পায়ার এবং রেফারি ছিলেন আপনারা নিজেই, আজ ঠিক সেই একই খেলাই উল্টো দিকে চলছে। শুধু রেফারি আর আম্পায়ার বদলে গিয়েছে।”

তৃণমূলের যে বিধায়কেরা বিক্ষুব্ধ এবং বিদ্রোহী তাঁদের সম্পর্কে অধীরের পর্যবেক্ষণ, তাঁদের বেশির ভাগই মূলত মুসলমান ভোটব্যাঙ্কের জোরে বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাই তাঁরা যদি বিজেপিতে যান জনরোষের মুখে পড়তে পারেন। এমন বিধায়কদের নিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‘আপাতত বিজেপি থেকে ‘দো গজ কি দূরি’ বজায় রেখে চলছেন এঁরা। সরাসরি পদ্মশিবিরে যোগ না দিলেও এঁদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করছে। তাই জনসমক্ষে বিজেপি থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে ওঁদের বিজেপির নির্দেশে উঠতে-বসতে হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement