প্রতীকী ছবি
কল্যাণীতে এসএনার কার্নিভালে ‘কোভিড-১৯’ হাসপাতাল চালানোর জন্য জেএনএম হাসপাতালের কাছে চিকিৎসক ও অন্য সব রকমের সহযোগিতা চাইল নদিয়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর। যদিও জেএনএম জানিয়েছে, অন্য সহযোগিতা করলেও তাদের পক্ষে চিকিৎসক দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে চাপে পড়ে গিয়েছেন জেলার স্বাস্থকর্তারা।
গত শুক্রবারই কল্যাণীতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলাশাসক বিভু গোয়েল। সঙ্গে ছিলেন জেলার স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। কিন্তু জেএনএম কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। তার জেরে কল্যাণীর কোভিড হাসপাতাল চালু করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরকে। ইতিমধ্যেই কলকাতায় স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি পাঠিয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জেএনএম-এর সাহায্য ছাড়া ওই কোভিড হাসপাতাল চালু করা অসম্ভব। যদিও এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে নারাজ জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা।
স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশেই করোনা আক্রান্তদের জন্য নদিয়ায় দু’টি কোভিড-১৯ হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। একটি কৃষ্ণনগরের গ্লোকাল হাসপাতাল, অন্যটি কল্যাণীর এসএনআর কার্নিভাল হাসপাতাল। সমস্ত রকম পরিকাঠামো থাকায় দু’দিনের মধ্যেই কৃষ্ণনগরের ভাতজাংলায় বন্ধ পড়ে থাকা গ্লোকাল হাসপাতালে ১০০ শয্যার কোভিড-১৯ হাসপাতাল তৈরি করে ফেলে স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু বর্তমানে সেটিকে করোনা-সহ সব ধরনের প্রবল শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস’ (সারি) হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। করোনা পজ়িটিভ রোগীদের জন্য কার্নিভালে ১০০ শয্যার কোভিড-১৯ হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবন সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও পাঠানো শুরু করেছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকে দু’টি আর স্বাস্থ্য ভবন থেকে দু’টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়েছে। তৈরি করা হচ্ছে ডায়ালিসিসের পরিকাঠামো। কাজ প্রায় শেষের দিকে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের দাবি, কার্নিভালে কোভিড হাসপাতাল তৈরির একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, চাকদহ ব্লক হাসপাতাল ও হরিণঘাটা ব্লক হাসপাতালের পাশাপাশি গাঁধী হাসপাতাল এবং জেএনএম-এর চিকিৎসক এবং অন্য পরিকাঠামো ব্যবহার করা হবে। সেই মতোই পদক্ষেপ করতে শুরু করেছিলেন জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা। কিন্তু মাঝপথে চিকিৎসক দেওয়ার বিষয়ে জেএনএম আপত্তি জানিয়ে বসে। জেলার তরফে শত অনুরোধেও বরফ গলেনি।
তার জেরেই সম্প্রতি নদিয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, জেএনএম কেবল তাদের নিজস্ব আইসোলেশন ওয়ার্ডের পরিকাঠামো দিয়ে সাহায্য করবে বলেছে। কিন্তু জেএনএম হাসপাতালের চিকিৎসক ছাড়া কল্যাণীর কোভিড হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা সম্ভব নয়। জেলার এক কর্তার কথায়, “জেএমএম হাসপাতালের ১৩৫ জন ফ্যাকালটি ও ২১ জন মেডিক্যাল অফিসার আছেন। তার পরেও তারা চিকিৎসক দিতে চাইছে না। এই পরিস্থিতিতে কোভিড হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা প্রায় অসম্ভব। কারণ এমনিতেই জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম। করোনা পরিস্থিতিতে চাপ আরও প্রবল হয়েছে।
উল্টো দিকে, জেএনএম কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তাঁরা প্যাথলজি থেকে শুরু করে এক্স-রে, নার্স, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী, সাফাইকর্মী সবই দিতে রাজি আছেন। কিন্তু কোনও ভাবেই ডাক্তার দিতে পারবেন না। সোমবার কলেজ অব মেডিসিন অ্যান্ড জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ কেশব মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, “এই বিষয়ে আমি কিছু বলব না। যা বলার, হাসপাতালের সুপার বলবেন। কারণ বিষয়টা তিনিই দেখছেন।” আর হাসপাতাল সুপার অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “ আমাদেরও প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম। নিজেদের হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ, মেডিক্যাল কলেজ, আইসোলেশন ওয়ার্ডও চালু রাখতে হবে।” তাঁর মতে, “চিকিৎসক প্রয়োজন থাকলে দেবেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।”
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জেলাশাসক বলেন, “জেএনএম হাসপাতালের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, সকলের সঙ্গে কথা বলে আমায় জানাবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কিছু জানাননি। নির্দিষ্ট করে কোনও সিদ্ধান্তও হয়নি। তবে আশা করছি, সমস্যা থাকবে না।”