ডোমকল পৌরসভা। ফাইল চিত্র।
ডোমকলে নতুন দিনের আলো দেখাতে পারেনি তৃণমূল। আলো নিভেছে। এ বারের নির্বাচনে পরাজয়ের পরে ডোমকলে পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগে ফের সরব এলাকাবাসী। তৃণমূল প্রার্থীর হারের পরে সমাজমাধ্যমে তৃণমূল-বিরোধী হাওয়ার জোর ক্রমেই বাড়ছে। আর সেই ঝোড়ো হাওয়ায় পুরসভার দুর্নীতির কথাই অনেকের মুখে মুখে।
কোনও রাখঢাক না করেই কেউ কেউ হাটে হাঁড়ি ভাঙছেন বলা চলে। কেউ সরকারি আবাস প্রকল্পে বাড়ি পেতে ‘কাটমানি’ দিয়েও প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ পাননি। সমাজমাধ্যমে তাঁরাই প্রাক্তন কাউন্সিলরদের বাড়িতে ধরনার ডাক দিচ্ছেন, আইনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানাচ্ছেন। এত দিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় এলাকার ‘বাহুবলী’দের ভয়ে মুখ বন্ধ রাখলেও রাজ্যে পালাবদলের পরে তাঁদের মুখের আগল ভেঙেছে। দুর্নীতি নিয়ে বিরোধিতায় সরবডোমকলবাসীদের একাংশ।
ডোমকলে পুরসভার দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। পুরসভা তৈরি হওয়ার পর থেকেই নানা সময় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল পুরপ্রধান থেকে কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে।
বিরোধীরাও এর আগে সরব হয়েছেন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে। তবে সাধারণ মানুষ খুব বেশি মুখ খোলেননি, খানিক সরকারি প্রকল্পের টাকা পাওয়ার আশায় আর খানিক তৃণমূল নেতাদের চাপে। কিন্তু সরকারের পতন আর ডোমকলে তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয়ের পরেই মুখ খুলতে শুরুকরেছেন অনেকে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অনেক কাউন্সিলরের বাড়িতেই এ বার হাজির হবেন পাওনাদাররা। ডোমকলের সিপিএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক তথা জয়ী সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ডোমকল পুরসভার পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি নিয়ে আমরা একাধিক বার সরব হয়েছি। তবে এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য ডোমকল পুরসভার নির্বাচন করানো।”
তবে এ প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তৃণমূল নেতারা। প্রাক্তন কাউন্সিলররা অনেকেই বলছেন, “আমরা হেরেছি, ফলে এখন ব্যাঙেও লাথি মারবে।”
ডোমকল পুরসভার প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান তৃণমূলের প্রদীপ চাকি বলেন, “আমাদের দলের কিছু কিছু কাউন্সিলর বিষয়টিকে ব্যবসার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল, এটা ঠিক। তবে যারা ঘরের জন্য টাকা দিয়েছেন, তাঁরাও সমান অপরাধী। কারণ দোতলা, তিনতলা বাড়ি থাকার পরেও টাকা দিয়ে ঘর নিয়েছেন অনেকে। ভোট-পরবর্তী সময়ে গোটা ডোমকল জুড়েই চাপ বাড়ছে তৃণমূল নেতাদের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে