মদ্যপের দাপটে নবদ্বীপে নাকাল শ্মশানযাত্রীরা

মৃত্যুর পরে তাঁর দেহের সৎকার যেন নবদ্বীপে হয়, এমন ইচ্ছা বহু মানুষই জানিয়ে রাখেন পরিবার পরিজনদের কাছে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০১:৫৮
Share:

মৃত্যুর পরে তাঁর দেহের সৎকার যেন নবদ্বীপে হয়, এমন ইচ্ছা বহু মানুষই জানিয়ে রাখেন পরিবার পরিজনদের কাছে। প্রিয়জনের সেই শেষ ইচ্ছার মর্যাদা দিতে দূরদূরান্ত থেকে মৃতদেহ সৎকার করতে চৈতন্যধাম নবদ্বীপের শ্মশানে আসেন মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজনেরা। পার্শ্ববর্তী বর্ধমান, হুগলী, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা ছাড়াও কলকাতা, হাওড়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, এমনকী সুদূর শিলিগুড়ি থেকেও অনেক সময় সৎকার করতে ছুটে আসেন নবদ্বীপ মহাশ্মশানে।

Advertisement

কিন্তু দূরদূরান্ত থেকে মৃতদেহ সৎকার করতে নবদ্বীপ শ্মশানে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরছেন মৃতের পরিবারবর্গ। ইদানিং একশ্রেণীর শ্মশানযাত্রীর কাছে মৃতদেহ সৎকার মানেই হঠাৎ পাওয়া মদ্যপানের সুযোগ। নিকট দূরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নবদ্বীপে শবদাহ করতে আসা সেই সব শ্মশানযাত্রীদের বেলাগাম মদ্যপান এবং তার পর মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে বচসা, শ্মশান জুড়ে হইহল্লায় চরম ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে শ্মশানের পরিবেশ। মদ্যপ অবস্থায় নিজেদের মধ্যে কিংবা অপর কোন মদ্যপ দলের সঙ্গে বচসা প্রায়ই মারামারি হাতাহাতিতে গড়ায়। ছুটে আসতে হয় পুলিশকে। এই পরিস্থিতিতে অসহায় বোধ করেন সদ্য স্বজন হারানো অন্য পরিবারের মানুষজন। মাঝেমাঝেই মদ্যপদের হামলার মুখে পড়তে হয় শ্মশান চত্বরের বিভিন্ন দোকানদারদেরও। নেশার ঝোঁকে কেনাকাটা করার পর হিসেব নিয়ে গোলমাল পাকানো বা দাম নিয়ে বচসা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমনিতে নবদ্বীপ মহাশ্মশানে শবদাহের নানা রকম সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। স্থানীয় পুরসভা পরিচালিত শ্মশানে রয়েছে দু’টি বৈদ্যুতিক চুল্লি, মাথায় শেড দেওয়া চারখানি কাঠের চিতা। বহু পরিবারই নবদ্বীপ শ্মশানে কাঠের চিতায় শবদাহ করান। মরদেহ নিয়ে অপেক্ষা করার জন্য এবং শ্মশানযাত্রীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে একাধিক ঘর, সুলভ শৌচাগার। শ্মশানের চারপাশে বাগান, পাকা চওড়া রাস্তা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার জন্য দিন-রাত কোনও সময়েই নবদ্বীপ শ্মশানে দেহ সৎকারে কোন অসুবিধা নেই। তৈরি হচ্ছে মৃতদেহ সংরক্ষণের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। যে কারণে সারাদিনই শবদাহের ভিড় লেগেই আছে এখানে। দিনরাতের যে কোন সময়ে শবদাহ করতে এসে অপেক্ষা করতেই হয়।

Advertisement

আর সেই অপেক্ষার সুযোগ খোঁজেন একশ্রেণীর শ্মশানযাত্রী। তাঁরা রীতিমতো খাদ্য পানীয় নিয়ে প্রস্তুত হয়েই নবদ্বীপ শ্মশানে আসেন। যেমন ২৬ জানুয়ারি বর্ধমান থেকে আসা শ্মশানযাত্রীদের বেশ বড়ো একটি দল পেটিভর্তি মদ এবং রান্নার সরঞ্জাম নিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ শ্মশানে থাকা এবং লাগামছাড়া মদ্যপানের ফলে স্বাভাবিক ভাবেই নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গোলমাল শুরু করেন। সাম্প্রতিক অতীতে মদ্যপদের হামলায় ভাঙচুর হয়েছে শ্মশানের অফিস ঘরেও। স্থানীয় ব্যবসায়ী দীপেন্দু দত্ত বলেন, ‘‘যাঁরা মদ খাওয়ার জন্য শ্মশানে আসেন, তাঁরা সকলেই আসার সময় তৈরি হয়েই আসেন। কোনও রকমে মরদেহ নথিভুক্ত করেই বসে পড়েন আসরে।’’

এমনই মদের খোলামেলা আসর থেকেই ছড়ায় গোলমাল। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয়ে যায় চিৎকার, গালিগালাজ। আতঙ্কিত বোধ করেন অনান্য শ্মশানযাত্রীরা। মাঝেমাঝে পরিস্থিতি সামাল পুলিশকে ছুটে আসতে হয়। সাম্প্রতিক কালে একাধিকবার পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়েছে গোলমাল থামাতে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাইছেন স্থায়ী ভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হোক।

নদিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) তন্ময় সরকার বলেন, ‘‘এ বার থেকে নবদ্বীপ শ্মশানে নিয়মিত অভিযান চালাবে পুলিশ।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement