বহরমপুরে রবিবাসরীয় ভোট প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: গৌতম প্রামাণিক।
মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রায় বহরমপুরের রাস্তায় উপচে গেল ভিড়। রবিবার বিকেলে বহরমপুরের গির্জা মোড় থেকে পদযাত্রা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদযাত্রায় তাঁর এক পাশে ছিলেন দলের বহরমপুরের প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়, আর এক পাশে ছিলেন দলের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অপূর্ব সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী যাত্রাপথের দু’ধারে থাকা মানুষকে দেখে কখনও হাত নাড়িয়েছেন, কখনও হাতজোড় করে নমস্কার জানিয়েছেন। এ ভাবে তাঁর পদযাত্রা গির্জা মোড় থেকে জলট্যাঙ্কি মোড়, কাদাই, কল্পনা মোড়, খাগড়া বান্ধব প্রেসের মোড় হয়ে যত এগিয়েছে ভিড় তত বেড়েছে। পথের ধার ছাড়াও কখনও বহুতলের দিকে তাকিয়েছেন, কখনও বাড়ির ছাদের দিকে কিংবা শপিংমল থাকা লোকজনকে দেখে হাত নাড়িয়েছেন। পথের মধ্যে কেউ তাঁকে ফুলের বোকে দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, কেউ ট্রফি তুলে দিয়েছেন, এক জন আবার তাঁর হাতে ব্যাট তুলে দিয়েছিল। সেই ব্যাট বল হাতে মুখ্যমন্ত্রীকে পদযাত্রার মাঝে খেলতেও দেখা যায়। এভাবেই প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার রাস্তায় ঘণ্টাখানেক ধরে মুখ্যমন্ত্রী পদযাত্রা করেছেন।
এ দিন গির্জা মোড় থেকে খাগড়ার চৌরাস্তা নেতাজি মূর্তি পর্যন্ত প্রায় দু’কিলোমিটার পদযাত্রা করার কথা থাকলেও তিনি পুরনো কান্দি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার পদযাত্রা করেছেন। মাঝে জয়কালী বাড়ির (মন্দির) সামনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী খানিকক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সঙ্গে বিটি কলেজ বটতলার কাছে একটি পোশাকের দোকানের সামনে থাকা চেয়ারে বসে খানিকক্ষণ মুখ্যমন্ত্রী বিশ্রাম নেন। তার পরে আবার পদযাত্রা শুরু করেন। পুরনো কান্দি বাসস্ট্যান্ডের কাছে এসে তিনি গাড়িতে ওঠেন।
সেখানেই মানবিক মুখ দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর গাড়ির সামনে এক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবক চলে আসেন। ওই যুবক মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কিছু কথাও বলেন। তার পরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সাগরদিঘির উত্তম দাস নামে ওই যুবকের কাছ থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন।
পরে ওই যুবক বলেছেন, ‘‘আমি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। আমি চাকরি পাচ্ছি না। সে কথা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি। তিনি ভোটের পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।’’
মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাস্তার দু’পাশে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এ দিন পদযাত্রা ছিল খাগড়া অঞ্চলে। ওই অঞ্চলে রাস্তা সরু হওয়ায় বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে দোকান, শপিংমলের ছাদেও নিরাপত্তা কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি শেষে বহরমপুরের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এ দিন দিদির পদযাত্রায় মানুষের ঢলের সুনামি বয়ে গেল।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে