প্রতীকী ছবি।
নিজের এলাকা ছেড়ে ভরতপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়ার পরে পরেই দলের দু’ব্লক সভাপতিকে সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবং ওই দাবি জানিয়ে দলের জেলা সভাপতি আবু তাহের খান ও প্রদেশ সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দাবি বিধায়ক হুমায়ুনের।
ভরতপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিট নিয়ে দলের অন্দরে ও প্রকাশ্যে কম দ্বন্দ্ব হয়নি। জেলার মধ্যে ওই কেন্দ্রে প্রকাশ্যে প্রার্থী পছন্দ না হওয়া নিয়ে যেমন বিক্ষোভ হয়েছে ঠিক একই ভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে কর্মিসভা করে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। একজন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শক্তিপুরের মানিক্যহারের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর ও ভরতপুর কেন্দ্রের দলীয় পর্যবেক্ষক ও ভরতপুর ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মহম্মদ আজহার উদ্দিন ওরফে সিজার ও ভরতপুর ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি নুর আলম শেখের মধ্যে। ভোটের আগে হুমায়ুন ও সিজারের মধ্যে দ্বন্দ্ব মিটে গিয়ে একসঙ্গে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল। সিজারকে নির্বাচনী এজেন্ট করেছিলেন হুমায়ুন, কিন্তু ভোটের দিন সিজারকে তাঁর পরিচয় পত্র ও অনুমোদিত গাড়ি না দিয়ে সিজারকে কার্যত গৃহ বন্দি করে রেখে ভোটের দিন এলাকায় এলাকা চষে ভোট করান হুমায়ুন। হুমায়ুনের অভিযোগ, “সিজারভাই ও নুর আলম দু’জনের আমার সঙ্গে বেইমানি করেছে। নিজেরা তৃণমূলের দায়িত্বে থাকার পরেও তৃণমূল কে ভোট না দেওয়ার জন্য হুমকি দিয়েছে দলের কর্মীদের। কংগ্রেস ও বিজেপির ভোট করিয়েছে ওরা দু’জনেই। তাই সম্মান নিয়ে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।” হুমায়ুনের দাবি, ওরা দু’জনে দলের হয়ে কোন অনুষ্ঠান করতে পারবে না। সেটা করলে হুমায়ুন ছেড়ে দেবে না, বলেও হুমকি দিয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন।
যদিও হুমায়ুনের ওই দাবি একেবারেই মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সিজার ও নুর আলম। তাঁরা বলেন, “আমাদের দল থেকে সভাপতি করা হয়েছে। তার ফল লোকসভাতেও আমাদের কেন্দ্রে লিড ছিল তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকারের। এবার ভোটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়ার পর হুমায়ুনসাহেব কি বলছেন আমাদের জানানেই। ওই বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না।” জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, “ওই বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।’’