তৃণমূলের মুকুল রায় স্মরণ। সোমবার কৃষ্ণনগরে। নিজস্ব চিত্র ।
অসুস্থতার কারণে অনেক আগে থেকেই বিধায়ক মুকুল রায়ের সঙ্গে কৃষ্ণনগরের যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে তাঁর মৃত্যুতে সরকারি ভাবে বিধায়ক-হারা হল কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র।
২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে এই কেন্দ্র থেকে জেতার পর সে ভাবে কখনও কৃষ্ণনগরে আসেননি মুকুল। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরলেও নদিয়ার সদর শহরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর প্রত্য়ক্ষ সংযোগ আর ছিল না বললেই চলে। ফলে তাঁর মৃত্যুতে সংগঠন বা আসন্ন ভোটের প্রস্তুতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না।
নদিয়ার বাসিন্দা না হলেও এই জেলার রাজনীতিতে এক সময়ে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিলেন মুকুল। দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের মতে, তিনিই এই জেলায় তৃণমূলকে শক্ত সাংগঠনিক ভিতের উপর দাঁড় করান। ১৯৯৮ সালে দল গঠিত হওয়ার সময় থেকেই অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুকুল রায় ছিলেন নদিয়ার দায়িত্বে। পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত। একটানা এই প্রায় ১৭ বছর তিনিই এই জেলায় তৃণমূলের সংগঠনের শেষ কথা ছিলেন। এই পর্বে তিনি গোটা জেলা চষে বেড়িয়েছেন। বুথ স্তরের বহু কর্মীকে নামে চিনতেন, প্রয়োজনে সরাসরি ফোন করতেন। নিজেই বলতেন, নদিয়া জেলা তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’।
এক সময় তৃণমূলের নদিয়া জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তের সঙ্গে জুটি বেঁধে পুরসভা থেকে একের পর এক গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্য দলের সদস্য ভাঙিয়ে সেগুলিকে দখল করার ব্যবস্থা করেছিলেন মুকুল। জেলায় টিকিট বণ্টন থেকে শুরু করে কে কোন সাংগঠনিক পদে থাকবেন, তা তিনিই স্থির করতেন। কিন্তু দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর সেই অবস্থাটা পাল্টে যায়। মুকুলের অতি ঘনিষ্ঠ নেতারাও তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন।
কৃষ্ণনগর যেমন মুকুলকে প্রশাসন থেকে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্ষমতা ভোগ করতে দেখেছে, দেখেছে ক্ষমতাচ্যুত অসহায় মুকুলকেও। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নদিয়ায় তাঁর প্রভাব প্রায় হারিয়েই যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হলেও সেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দাপট আর দেখাতে পারেননি। তেমন প্রচারে বেরোতেও দেখা যায়নি। তবে ধারাবাহিক ভাবে বিজেপির সঙ্গে থাকা এই কেন্দ্রের মানুষ তাঁকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে জেতান। তার পর দু’এক বারই তাঁকে কৃষ্ণনগরে দেখা গিয়েছে। মুকুলের মৃত্যুতে নদিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায় সমাপ্তি ঘটল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে