Migrant Labour on Tribunal

ট্রাইবুনাল নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিযায়ীরা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় জেলায় প্রায় ১৪ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩০
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআরের শুনানিতে বহু পরিযায়ী শ্রমিক ডাক পেয়েছিলেন। সে সময় কাজ ফেলে ভিন্ রাজ্য থেকে শুনানিতে যোগ দেওয়ার জন্য অনেক কষ্টে পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরেছিলেন। নথি হাতে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। তার পরে অনেকেই ভিন্ রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের একটা অংশ ইদে বাড়ি ফিরলেও অনেকেই ভিন্ রাজ্য থেকে গিয়েছেন। এ বারে তাঁদের অনেকেরই নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে জেলায় ফিরছেন। তবে অনেকেই ভিন্ রাজ্য থেকে অনলাইনে ট্রাইবুনালে আবেদন করছেন। আবার কারও কারও পরিবারের লোকজন তাঁদের হয়ে ট্রাইবুনালে অনলাইনে আবেদন করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় জেলায় প্রায় ১৪ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিবেচনাধীন ভোটারদের বিচারক নিষ্পত্তি করেছেন। দফায় দফায় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তার পর থেকেই বহরমপুরে ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার ছাড়াও জেলার মহকুমাশাসকদের অফিসগুলিতে ভিড় জমাচ্ছেন তালিকা থেকে নাম মুছে যাওয়া ভোটারেরা। তাঁদের অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্য রয়েছেন। প্রায় প্রতিদিন ভিড় হচ্ছে ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য।

ভগবানগোলার মহিষাস্থলীর পুরাতন পাড়ার সোহারুল ইসলাম পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে ওড়িশায় রয়েছে। তাঁর এবং তাঁর দুই ছেলে মেয়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। সোহারুল বলেন, ‘‘আমার বাবার সঙ্গে আমাদের তিন ভাই এবং আমার দুই ছেলে মেয়ের লিঙ্ক করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের জানায় আমার বাবাকে নাকি ৬ জনের বেশি বাবা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তখনও আমি ওড়িশায় কাজে ছিলাম। শুনানির নোটিস পেয়ে সে সময় অনেক কষ্টে বাড়ি পৌঁছে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলাম। সমস্ত বৈধ নথি জমা দিয়েছিলাম। তার পরেও আমার এবং আমার ছেলেমেয়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। এখনও আমি ওড়িশায় রাজমিস্ত্রির কাজে আছি।’’ সোহারুল বলেন, ‘‘আমার স্ত্রী গ্রাম থেকে আমার সমস্ত নথিপত্র দিয়ে অনলাইনে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন।’’

বুধবার লালবাগে মহকুমা শাসকের অফিসের ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দিতে এসেছিলেন মুর্শিদাবাদ জিয়াগঞ্জ ব্লকের প্রসাদপুরের বাসিন্দা কালু শেখ। তিনি বলেন, ‘‘আমার নাম কেন বাতিল হল, জানি না। আমি লটারি বিক্রি করি। এ দিন কাজ বন্ধ রেখেই ট্রাইবুনালে আবেদন জমা দিতে এসেছি। আবেদন জমা দিয়েছি, কিন্তু তার রসিদ দেওয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।’’

পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের রাজ্যের সম্পাদক আসিফ ফারুখ বলেন, ‘‘মুছে দেওয়া ভোটারদের একটা বড় অংশ মহিলা এবং পরিযায়ী শ্রমিক।’’

বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘‘আমাদের কর্মীরা, আইনজীবীরা কাজ করছেন। পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে যাঁদের ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছে তাঁদের ট্রাইবুনালে আবেদনের সব রকমের সহায়তা করা হচ্ছে। আমরা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাব।’’ বিজেপির রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, ‘‘গোটা ঘটনার দায় রাজ্য সরকারের।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন