দলের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনল তৃণমূল

এক দিকে সিপিএম-কংগ্রেস জোট ক্রমশ পোক্ত হচ্ছে। ছোট-ছোট ঘটনাতেও তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে। এক সঙ্গে মিছিলে হাঁটছেন, সভা-সমিতিতে যাচ্ছেন দু’দলের নেতারা। অন্য দিকে, নিজের দলের ডালে বসে জাল কাটতে ব্যস্ত তৃণমূলের কিছু নেতা। হাওয়া দিচ্ছে সিপিএম থেকে দল বদলে আসা নেতাদের সঙ্গে আদি তৃণমূল নেতাদের দ্বন্দ্ব।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৬ ০১:৫১
Share:

এক দিকে সিপিএম-কংগ্রেস জোট ক্রমশ পোক্ত হচ্ছে। ছোট-ছোট ঘটনাতেও তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে। এক সঙ্গে মিছিলে হাঁটছেন, সভা-সমিতিতে যাচ্ছেন দু’দলের নেতারা।

Advertisement

অন্য দিকে, নিজের দলের ডালে বসে জাল কাটতে ব্যস্ত তৃণমূলের কিছু নেতা। হাওয়া দিচ্ছে সিপিএম থেকে দল বদলে আসা নেতাদের সঙ্গে আদি তৃণমূল নেতাদের দ্বন্দ্ব।

আর এই ঘরোয়া ফাঁসেই ফেঁসে গিয়েছেন চাকদহের দেউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান সুদর্শন মজুমদার। ২৫ সদস্যের ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের সদস্য ১৬ জন। তার মধ্যে ১০ জন অনাস্থার পক্ষে সই করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন দলেরই সদস্যেরা।

Advertisement

সোমবার চাকদহের বিডিও নিশীথভাস্কর পালের অনাস্থাপত্র জমা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমনই যে বিরোধী দলের সদস্যদের সমর্থন না পেলে কুর্সি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে চাকদহের দেউলি পঞ্চায়েতের প্রধান সুদর্শন মজুমদারের। নিশীথবাবু জানান, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে।

গত পঞ্চায়েত ভোটে সিপিএমের ১২ জন, তৃণমূলের ৭ জন এবং কংগ্রেসের ৬ জন নির্বাচিত হন। সিপিএমের সুদর্শন মজুমদার প্রধান এবং গীতা বিশ্বাস উপপ্রধান হন। কিছু দিন পরে প্রধান সুদর্শন-সহ সিপিএমের ৬ জন এবং কংগ্রেসেরও তিন জন পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬। সুদর্শন মজুমদারই ফের প্রধান হন। উপপ্রধান থেকে যান গীতাদেবীই। সেই থেকেই তৃণমূল পঞ্চায়েতের সদস্যদের একাংশের ক্ষোভ ছিল। কিছু দিনের মধ্যে সিপিএম থেকে আসা সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের হয়ে জিতে আসা সদস্যদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়। দলের সদস্যদের মধ্যে দূরত্বও বাড়তে থাকে।

তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নির্মল বিশ্বাসের অভিযোগ, প্রধান দলের অন্য সদস্যদের কথায় কান দেন না। কোনও বিষয়ে আলোচনাও করেন না। সদস্যদের অন্ধকারে রেখেই সব কাজ করেন। নির্দিষ্ট দু’এক জনকে দিয়ে পঞ্চায়েতের সব কাজ করান। দুর্নীতি করেন। তাঁর দাবি, ‘‘দলের জেলা সভাপতি-সহ অনেককেই বিষয়টি জানিয়েছি। কিছুই হয়নি। বাধ্য হয়ে অনাস্থা এনেছি।’’

অভিযোগ অস্বীকার করে সুদর্শন মজুমদার পাল্টা দাবি করেন, ‘‘আমি সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিই। পঞ্চায়েতের সর্বত্র উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে।’’ তাঁর মতে, ‘‘কারও কারও প্রধান হওয়ার ইচ্ছে জেগেছে। তাই তাঁরা এ সব করছেন।’’ জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেন, ‘‘দলকে না জানিয়ে যাঁরা অনাস্থা এনেছেন, দল তাঁদের পাশে দাঁড়াবে না।’’

সিপিএমের হিংনাড়া-দেউলি লোকাল কমিটির সদস্য সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এটা তৃণমূলের নিজস্ব বিষয়। এতে আমাদের বলার কিছু নেই।’’ তিনি বলেন, ‘‘ওখানে উপপ্রধান-সহ আমাদের ছ’জন সদস্য রয়েছেন। আপাতত ঠিক রয়েছে, ওই গণ্ডগোলে আমরা জড়াব না।’’ দেউলি অঞ্চল কংগ্রেস সভাপতি এবং ওই পঞ্চায়েতের সদস্য ধনঞ্জয় ঘোষের দাবি, ‘‘প্রধান নিজের মতো কাজকর্ম করেন। কোনও সদস্যকে কিছু বলেন না। পঞ্চায়েতে উন্নয়নের নামে লুঠপাট চালাচ্ছে তৃণমূল। এখন ওদের এক দল লুটেপুটে খাচ্ছে। অন্য দল পাচ্ছে না। তাই তারা অনাস্থা এনেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের তিন সদস্য রয়েছেন। ভোটাভুটির সময়ে দল যে নির্দেশ দেবে, তা মেনে চলব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement