Beldanga Unrest

বেলডাঙায় ছন্দে ফিরছে জনজীবন! সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতার আরও এক, কিছু এলাকায় এখনও পুলিশবাহিনী

জঙ্গিপুর বাগানপাড়া থেকে ফজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২৯
Share:

বেলডাঙা স্টেশনে টহল দিচ্ছে পুলিশ। — ফাইল চিত্র।

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। গত দু’দিনের অশান্তির রেশ কাটিয়ে সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। জাতীয় সড়কে যান চলাচল যেমন স্বাভাবিক হয়েছে, তেমনই রেল পরিষেবাও সচল রয়েছে। রেলের ক্ষতিগ্রস্ত সিগন্যাল ও গেট মেরামতির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রেজিনগর ও বেলডাঙার বিভিন্ন মোড়ে এখনও বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও এক জনকে।

Advertisement

পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য। রবিবার রাতে জঙ্গিপুর বাগানপাড়া থেকে ফজলুর রহমান নামে আরও এক ব্যক্তিকে অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭। সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় আরও চার জনকে আগেই ধরা হয়েছিল। বেলডাঙাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের রবিবার আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক ২০ জনকে জেল হেফাজত এবং বাকিদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, এলাকায় কোনও পরিকল্পিত উস্কানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে যারা উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাদের চিহ্নিত করতে সাইবার সেলের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, ‘‘হিংসার ঘটনায় আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাকে আজ আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল উস্কানিদাতাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’’ জেলার গোয়েন্দা বিভাগও এই তদন্তে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

Advertisement

এলাকা শান্ত হওয়ায় স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। বেলডাঙা বাজারের এক বস্ত্র ব্যবসায়ী আনিসুর বিশ্বাস বলেন, ‘‘গত দু’দিন ভয়ে দোকান খুলতে পারিনি। আজ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক দেখে দোকান খুললাম। আমরা শান্তি চাই, রুটি-রুজির জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ খুব জরুরি।’’ বর্তমানে জাতীয় সড়কে পুলিশের রুট মার্চ চলছে এবং পুলিশ সুপার কুমার নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে কোনও গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার সকাল থেকে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙা। অভিযোগ, পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ভাড়াবাড়িতে। তার পর ভাঙচুর চলেছে পুলিশের গাড়িতে। দু’দিনে জখম হয়েছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement