সেই চেনা চিত্রনাট্য। অপহরণ। যে অপহরণের পরে কখনও পঞ্চায়েত, কখনও পুরসভা দখলে এসেছে শাসক দলের।
শুক্রবার দুপুরে ভরা সভা থেকে বিরোধীদের দখলে থাকা আরও এক পঞ্চায়েতের প্রধানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হল। এ বারে আহিরণে। যদিও ঘণ্টাখানেক পর ছাড়া পান হারোয়া পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ মণ্ডল। ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূলের অঞ্চল প্রধান কটা শেখ পলাতক। অভিযোগ, পঞ্চায়েত দখলের জন্যই নারায়ণকে অপহরণের ছক কষা হয়েছিল। তৃণমূল অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ দিন বেলা তিনটে নাগাদ আহিরণে সুতি ১ বিডিও অফিসে এসেছিলেন নারায়ণবাবু। পাশের মাঠেই চলছিল যুব উৎসব। সখানে শতাধিক দর্শক হাজির। তাদের সামনেই নারায়ণকে টানতে টানতে অফিস থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে বাইকে তুলে তিনটি বাইক নিয়ে নিমেষে উধাও হয়ে যায় জনা
কয়েক দুষ্কৃতী।
কংগ্রেসের সদস্য-সমর্থকরা বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। বিডিও দীপঙ্কর রায় আহিরণ পুলিশ ফাঁড়িতে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। ঘণ্টাখানেক পরে পুলিশ নারায়ণবাবুকে ব্লক অফিসে
নিয়ে আসে।
নারায়ণবাবু জানান, তাঁকে মারধর করেছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি কটা শেখ। যে কোনও সময় তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে যায় ওরা। বর্তমানে এই পঞ্চায়েত সিপিএম এবং কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। পঞ্চায়েত দখল করতে গেলে তৃণমূলের দরকার ১০ জন সদস্য। আগে দু’জন সদস্য ছিল তাঁদের। পরে সিপিএম, কংগ্রেস এবং নির্দল সদস্য যোগ দেওয়ায় বর্তমানে তাঁদের সদস্য সংখ্যা ৬। অভিযোগ, এই পঞ্চায়েত দখলের জন্যই প্রধানকে এ ভাবে অপহরণ করা হয়েছিল।
বিডিও জানান পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জঙ্গিপুরের এসডিপিও প্রবীণ প্রকাশ বলেন, “অভিযুক্তদের ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সেরাজুল ইসলাম অবশ্য জানান, নারায়ণের কাছে কটা টাকা পেত। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তবে তৃণমূলের জেলা সম্পাদক আশিস ঘোষ ব্লক বলেন, “পাওনা টাকা আদায়ের এটা পদ্ধতি নয়। এমন কাজ অনুচিত।”