ইমানকে অ্যাসিড দিয়ে ধৃত

যে অ্যাসিড ছোড়ে, সে-ই কি শুধু দোষী? আর যে লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করে তাকে অ্যাসিড বিক্রি করে, সে?

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৬ ০১:১৮
Share:

যে অ্যাসিড ছোড়ে, সে-ই কি শুধু দোষী? আর যে লাইসেন্সের তোয়াক্কা না করে তাকে অ্যাসিড বিক্রি করে, সে?

Advertisement

হাঁসখালির অ্যাসিড কাণ্ডে অবৈধ ভাবে অ্যাসিড বিক্রির অভিযোগে এক ব্যাটারি বিক্রেতাকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করল পুলিশ। যদিও এই পুরো ঘটনায় অ্যাসিড নিয়ে পুলিশের নজরদারি আদৌ না থাকাই সামনে চলে এসেছে।

সোমবার সকালে কৃষ্ণনগরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম নির্মল সাহা। কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তাঁর একটি ব্যাটারির দোকান আছে। হামলার দিন বারো আগে সেই দোকান থেকেই অ্যাসিড সালফিউরিক অ্যাসিড কিনে নিয়ে গিয়েছিল ইমান শেখ। গত সোমবার গভীর রাতে হাঁসখালির গাজনায় ওই অ্যাসিডই সে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ও তার মায়ের বিছানায় ছুড়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ। মেয়েটি এখনও কলকাতায় এসএসকেএমে ভর্তি।

Advertisement

পুলিশের দাবি, জেরার মুখে নির্মল সাহা জানিয়েছেন, ইমান দোকানে এসে বলেছিল, তার বাড়ির ব্যাটারি খারাপ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে কিছুটা অ্যাসিড দরকার। সে কথা বিশ্বাস করেই তাকে অ্যাসিড বিক্রি করেছিলেন তিনি। শুধু ইমন নয়, এর আগেও তিনি ব্যাটারি সারাইয়ের জন্য অনেককে অ্যাসিড বিক্রি করেছেন বলে নির্মল কবুল করেছেন।

অ্যাসিড বিক্রি করার নিয়ম হল, ক্রেতার ভোটার কার্ড বা বসবাসের অন্য প্রমাণপত্র দেখতে হয়, তার প্রতিলিপিও রাখতে হয়। রেজিস্টারও রাখতে হয়, যাতে উল্লেখ থাকে তিনি কত অ্যাসিড কবে কিনেছিলেন, কতটা ব্যবহার করেছেন, কতটা কাকে বিক্রি করেছেন। নির্মল সে সবের ধারই ধারেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

যদিও আদতে নির্মলের কথার সূত্র ধরেই ইমানকে পাকড়াও করেছিল পুলিশ। বগুলার ছোট চুপড়িয়ার বাসিন্দা ইমান ফোনে বেনামে আলাপ জমিয়েছিল একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী ও তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে। এক দিন ছাত্রীটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় তিন সন্তানের বাবা ইমান। ছাত্রী তাতে রাজি হয়নি, উল্টে অপমান করে। তারই বদলা নিতে সে অ্যাসিড হামলা করে বলে পুলিশের দাবি।

প্রথম দিকে পুলিশ ইমানের কথা জানতে পারেনি। জেলায় কোথায়-কোথায় অ্যাসিড পাওয়া যায়, তার খোঁজ করতে গিয়েই তারা নির্মলের সন্ধান পায়। নির্মল তাদের জানান, ছোট চুপড়িয়ার এক যুবক তাঁর কাছ থেকে অ্যাসিড কিনে নিয়ে গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই ইমানকে ধরা হয়। তাকে জেরা করে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই নির্মলকে ধরা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement