অসমাপ্ত রবীন্দ্রভবনের নির্মাণ কাজ। শনিবার রানাঘাটে। ছবি: সুদেব দাস।
নির্বাচনী জনসভা উপলক্ষে আগামী ৬ ও ৭ এপ্রিল নদিয়া জেলায় থাকছেন তৃণমূল সুপ্রিম তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ ২৬ বছরে একাধিক ভোট দেখেছে রানাঘাটবাসী। একের পর এক প্রতিশ্রুতি মিলেছে। কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। অনেক আবার কেবল কথার কথাই রয়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, অসমাপ্ত রবীন্দ্র ভবনের ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্ন ঘিরেই নির্বাচনের আগে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে শহরে।
দেখতে দেখতে প্রায় দুই যুগ পার হয়েছে। অথচ, এখনও সম্পূর্ণ রূপ পায়নি রানাঘাটের রবীন্দ্র ভবন। শহরের প্রবীণদের অনেকেই বলছেন, এটি এক সময়ে জেলার অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। ষাটের দশকে নির্মিত এই ভবন বহু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সভা-সমিতির সাক্ষী থেকেছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে নামাঙ্কিত এই ভবন ঘিরে আবেগ এখনও অটুট।
২০০০ সালের বন্যায় ভবনটি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটি ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ‘রবীন্দ্র কালচারাল স্কিম’-এর আওতায় নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেই সময়ে প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালের মধ্যে রাজ্য সরকার প্রায় দুই কোটি ৯২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করলেও কেন্দ্রের তরফে আর্থিক সহায়তা মেলেনি। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে সরকার পরিবর্তনের পর ওই প্রকল্প কার্যত স্থগিত হয়ে যায়। ফলে, নির্মাণকাজ মাঝপথেই থমকে দাঁড়ায়।
২০১৮ সালে কৃষ্ণনগরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই প্রকল্পে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ সম্ভব নয়। এর পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে রানাঘাটে এসে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নতুন করে অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির পর কেটে গিয়েছে তিন বছর। চূর্ণী নদী দিয়ে গড়িয়ে গিয়েছে অনেক জল, অথচ ভবনটির কাজ এগোনোর জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দ হয়নি।
বর্তমানে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে ভবনটি। দেয়ালে জমেছে শৈবাল, চারপাশে বেড়ে উঠেছে আগাছা। এক সময়ের সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র এখন পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ভবনে। রবীন্দ্র ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার দাবিতে মাঝেমধ্যেই শহরে পথে নামে বিভিন্ন সংগঠন। রানাঘাট সিটিজেন ফোরামের সম্পাদক পরেশনাথ কর্মকার বলেন, “রবীন্দ্র ভবন শুধু একটি ভবন নয়, রানাঘাটের মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। আমরা চাই, দ্রুত এই ভবনের কাজ শেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হোক।”
নির্বাচনের মুখে আবারও সামনে উঠে এসেছে পুরনো প্রশ্ন— প্রতিশ্রুতি কি এ বার বাস্তবে রূপ নেবে, না কি অসমাপ্তই থেকে যাবে রানাঘাটের রবীন্দ্র ভবন?
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে