দলবদলের পরে শুভেন্দু অধিকারীর সভায় কান্দির কাউন্সিলররা। জলঙ্গিতে গৌতম প্রামাণিকের তোলা ছবি।
তিনি বলছেন, ‘‘পরের চমক বেলডাঙা এবং বহরমপুর পুরসভা!’’ কংগ্রেসের দখলে থাকা কান্দি পুরসভার পাঁচ কাউন্সিলর শাসক দলে যোগ দেওয়ার পরে, শনিবার জলঙ্গির দলীয় সভায় এমনই হুঙ্কার দিয়ে রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী।
ওই পাঁচ জনের দলবদল নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জলঘোলা হচ্ছিল। এ দিন কান্দি পুরসভার উপ-পুরপ্রধান গৌতম রায়-সহ ওই পাঁচ কাউন্সিলর দলবদল করায় দীর্ঘ দিন ধরে কংগ্রেসের দখলে থাকা কান্দি পুরসভা শাসক দলের হস্তগত হওয়ারও সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। ১৮ আসনের পুরসভায় এখন কংগ্রেস এবং তৃণমূলের আসন ৮টি করে। বাকি দু’টি আসন রয়েছে বাম সমর্থিত নির্দলের। কংগ্রেসের অভিযোগ সে দিকেও এ বার হাত বাড়াচ্ছে তৃণমূল।
কংগ্রেসের গড়ে ইতিমধ্যেই ফাটল ধরিয়েছে শাসক দল। তিন বারের প্রাক্তন সাংসদ থেকে কংগ্রেসের মেজ-সেজ নেতাদের অনেকেই ভোটের আগে দলবদলের পথে হেঁটেছেন। সেই তালিকা দীর্ঘ করতে জেলার ওই দু’টি পুরসভা যে অচিরেই শাসক দলের হস্তগত হবে, এ দিন শুভেন্দুর সে ইশারাই দিয়েছেন।
মুর্শিদাবাদের দলীয় পর্যবেক্ষক হয়ে মুর্শিদাবাদ এসে কংগ্রেসের খাস তালুকে ‘ধস’ নামানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ দিন সে ‘কাজ’ অনেকটাই সেরে ফেলে তিনি বলছেন, ‘‘এটা শুরু, আর ক’টা দিন অপেক্ষা করুন, বহরমপুর ও বেলডাঙ্গা পুরসভার কি হয় দেখুন! আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেই মুর্শিদাবাদ জেলাপরিষদ নিয়েও নতুন খবর পাবেন। এখন এই জেলায় কংগ্রেস প্রথম নয়, তৃতীয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’’
শনিবার দুপুরে জলঙ্গির কাজিপাড়া ফুটবল ময়দান এবং বিকেলে রানিনগরের রামনগর ডিএন ক্লাব মাঠে সভা করেন তিনি। সেখানে মুর্শিদাবাদ দখলের পাশাপাশি, শুভেন্দুর দাবি, দিল্লিও ‘দূরে’ নয়। কী করে? তাঁর কথায়, ‘‘কেন্দ্রে একটা সরকার আছে, যারা মানুষ কী খাবে পরবে সেটাও ঠিক করে দেয়। আগামী লোকসভায় নীতীশ কুমার আর কেজরিবালদের মত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ওদেরও উৎখাত করবে মমতা বন্দোপাধ্যায়।’’
সেই সঙ্গে কল্পতরু হয়ে শুভেন্দু বলেছেন সংখ্যালঘু উন্নয়নের কথা। তিনি বলেন, ‘‘লোকশিল্পী ও ঢাকিদের ১০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।’’রেয়াত করেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকেও। বলছেন, ‘‘জামা খুলে লাভ হবে না, আগামী বিধান সভার পর আপনাকে এই জেলা থেকে তাড়াব। তবে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।’’
তবে জেলা তৃণমূলের সভাপতি মান্নান হোসেন ও তার ছেলে সৌমিক হোসেনের বক্তব্যের তির ছিল শুধুই অধীর। তাঁরা বলেন, ‘‘এক সময় আমাদের হাতে পায়ে ধরে অন্ধকার জগৎ থেকে কংগ্রেসে এসেছিলেন। আর এখন আমাদের গুরু পাচারকারী, কয়লা পাচাকারী বলছেন। মানুষ আমাদেরও চেনে, আপনাকেও চেনে।’’