জাপানি এনসেফালাইটিস রোগ প্রতিরোধে বয়স্কদের টিকা দিচ্ছে নদিয়া জেলা স্বাস্থ্যদফতর।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, প্রথম দফায় নদিয়ার চারটি ব্লকে এই টিকাকরণ কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। ওই চারটি ব্লকের ১৫-৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকলকে ওই টিকা দেওয়া হবে। তা ছাড়াও ১৫ বছরের নীচের সকলকে আগেই এই টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপড়া এবং কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে প্রায় ৮ লক্ষ ৪৪ হাজার বাসিন্দাকে এই টিকা দেওয়া হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ দিন ধরে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র-সহ বিভিন্ন জায়গায় শিবির করে এই টিকা দেওয়া হবে।
নদিয়ার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক তাপস রায় বলেন, “প্রথম দফায় এই চারটি ব্লকের বাসিন্দাদের জাপানি এনসেফেলাইটিস রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তী কালে বাকি ব্লকগুলোতেও একই ভাবে বাসিন্দাদের টিকা দেওয়া হবে।”
নদিয়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, নদিয়া জেলায় জাপানি এনসেফালাইটিস রোগ খুব কম দেখা যায়। সূত্রের খবর ২০১৪ সালে এই জেলায় এই রোগে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মধ্যে সে বছর এক জনের মৃত্যু হয়েছিল। তা ছাড়াও ২০১৫ সালে জেলায় ১৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে সে বছর এই রোগে কেউ মারা যাননি। ২০১৬ সালে জেলায় মাত্র এক জন এই রোগে আক্রান্ত হন। কোনও ভাবেই জেলার বাসিন্দাদের শরীরে এই ভাইরাস আক্রমণ করতে না পারে সে জন্য এ বারে বয়স্কদেরও টিকা দেওয়া হচ্ছে।
শুয়োরের শরীরে থাকে জাপানি এনসেফালাইটিসের ভাইরাস। আর কিউলেক্স মশার মাধ্যমে সেই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। যার ফলে বাসিন্দারা জাপানি এনসেফেলাইটিস রোগে আক্রান্ত হন। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, “জাপানি এনসেফালাইটিস রোগ আক্রান্তের ২৫-৩০ শতাংশের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফলে এই রোগ আক্রমণের আগে বাসিন্দাদের শরীরের প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে এই টিকা দেওয়া হয়। সারা জীবনে একটি টিকা দিতে হয়।