Municipal election

উন্নয়নকে ভোট দিন, ডোমকলে আর্জি মমতার

বহরমপুরে না গিয়ে যখন সোজা এই ডোমকলে আসছেন দিদি, ঝুলিতে না জানি কী আছে! অনেকেই বড়-বড় খোয়াব দেখে বসেছিলেন। শাসক দলের কিছু গাছ থেকে ঝুপ করে পড়া নেতা বলে বেড়াচ্ছিলেন— হ্যানা হোয়েঙ্গা, ত্যানা হোয়েঙ্গা। দেখে নিও, ডোমকল ভি ডারবান হোগা!

Advertisement

সুজাউদ্দিন

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৭ ০১:৩১
Share:

সস্নেহে: মঞ্চে খুদেকে আদর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ডোমকলে। ছবি: সাফিউল্লা ইসলাম

বহরমপুরে না গিয়ে যখন সোজা এই ডোমকলে আসছেন দিদি, ঝুলিতে না জানি কী আছে!

Advertisement

অনেকেই বড়-বড় খোয়াব দেখে বসেছিলেন। শাসক দলের কিছু গাছ থেকে ঝুপ করে পড়া নেতা বলে বেড়াচ্ছিলেন— হ্যানা হোয়েঙ্গা, ত্যানা হোয়েঙ্গা। দেখে নিও, ডোমকল ভি ডারবান হোগা!

কী রকম?

Advertisement

আরে, ডোমকল স্টেডিয়ামের জন্য অর্থবরাদ্দ তো হচ্ছেই!

আটিআই কলেজের শিলান্যাস তো এ বার হবেই! ও বাবা, এটাও জানো না বুঝি! ...ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি...

যাদের কুচুটে মন, যেমন বিরোধী দলের লোকেদের, তারা অনেকে নাক সিঁটকোচ্ছিল। কিন্তু যাঁরা ভক্তস্বভাব, নিজের অজান্তেই মাথা ভক্তিতে নুয়ে আসে, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু’ জপে মন অনুক্ষণ, তাঁদের অনেকে বিশ্বাস করে বসেছিলেন বইকী! কাজের বেলায় দেখা গেল, ও বাবা, তত কিছু নয়। নিতান্তই একটা পুর ভবনের শিলান্যাস। কবর আর শ্মশানের জন্য কিছু অর্থবরাদ্দ। আর কিছু পথবাতি, কিছু রাস্তা।

১৪ মে ডোমকলে পুরভোট। তার আগে বাজারে চিঁড়েমুড়ি ছড়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রশাসনিক জনসভা বহরমপুর থেকে ডোমকলে সরিয়ে এনেছেন, এই অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে বিরোধীরা। ফলে উন্নয়নের ফুলঝুরি ছুটবে বলে ডোমকলের আমজনতা প্রায় ধরেই নিয়েছিল। সেই সলতের ফুলকিতে ফুঁ দিয়েছিলেন গাঢ় সবুজ পাঞ্জাবী পরা কিছু যুবনেতাও।

এখন জনতা হতাশ। নেতাদের অনেকেই গা ও মাথা বিস্তর ঘামিয়ে আপাতত বিশ্রামে। তবে এঁদের কেউ-কেউ এখন দাবি করছেন, ডোমকলে দমকল কেন্দ্র হয়েছে, হয়েছে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, সেখানে এসএনসিইউ চালু হয়েছে। সবটাই তৃণমূলের আমলে।

জেলা যুব তৃণমূল নেতা সৌমিক হোসেনের দাবি, ‘‘ডোমকলে কেন সভা হয়েছে, সেটা প্রশাসন বলতে পারবে। তবে ভোটের জন্য উন্নয়ন করলে ডোমকলে হাসপাতাল বা দমকল কেন্দ্র তৈরি হত না। আগামী দিনে আরও অনেক উন্নয়ন হবে।’’ মমতা নিজেও এ দিন দাবি করেন, ‘‘আমরা ভোটের জন্য উন্নয়ন করি না, মানুষের জন্য করি।’’ বিধানসভা ভোটের আগে ডোমকলে প্রচারে এসেও যে তিনি সৌমিককে জেতাতে পারেননি, সেই আক্ষেপ তাঁর যায়নি।

সরকারি সভা থেকেই তিনি বললেন, ‘‘ডোমকলের মানুষ, নতুন করে যখন নির্বাচন হবে, উন্নয়নের জন্য ভোট দেবেন। ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য ভোট দেবেন। সংহতির জন্য ভোট দেবেন।’’ অর্থাৎ, ইঙ্গিতটা খুব স্পষ্ট। মমতা সরকার ‘উন্নয়ন’ কথাটাকেই বীজমন্ত্র করেছে, সবাই জানে। অতএব, ঘুরিয়ে বলা হল, ‘তৃণমূলকে ভোট দিন’— বলছেন বিরোধীরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘পুরভোটের জন্য বহরমপুর থেকে রাতারাতি সভা সরেছে ডোমকলে। এ ভাবে ভোটের আগে উন্নয়নের টোপ দেওয়াটাই তো অনৈতিক কাজ।’’

ডোমকল কবে ডারবান হবে কে জানে! ভক্তির খোঁয়াড়ি কেটে মনটাও খচখচ করছে হয়তো পাঁড় বিশ্বাসীর। কিন্তু ভোটের ডুগডুগিটা বেজেই গেল!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement