বাস না পেয়ে কেউ চড়লেন ট্রেকারের মাথায়।
দিনকয়েক আগে ম্যাজিক গাড়ির মালিকদের সঙ্গে ঝামেলা বাধে। সেই ঘটনার জেরে বুধবার আচমকা অনির্দিষ্টকালের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমায় বাস চালানো বন্ধ করে দিলেন বাস মালিকেরা। এ দিনের ধর্মঘটে পথে বেরিয়ে বাস না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। গন্তব্যে পৌঁছতে তাঁদের ঝুঁকি নিয়ে লছিমন বা অন্যান্য ছোট গাড়ির আশ্রয় নিতে হয়। এ দিকে জেলা পরিবহন দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, তাঁদের না জানিয়েই এ দিনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফলে এ ব্যাপারে তাঁদের কিছুই বলার নেই। এই চাপানউতরের মাঝে পড়ে মহকুমার হাজার খানেক যাত্রী এ দিন সমস্যায় পড়লেন।
যাত্রীবাহী ম্যাজিক গাড়ির মালিকদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই বাস মালিকদের ঝামেলা চলছে। গত মাসে বাস মালিক সংগঠনের কর্তাদের সঙ্গে ও ম্যাজিক গাড়ির মালিকদের ঝামেলা বাধে। পরে তা হাতাহাতির পর্যায়েও পৌঁছয়। বাস মালিক সংগঠনের সম্পাদক মনিরুদ্দিন মণ্ডল বলেন, “বাস স্ট্যান্ডের সামনে থেকে ম্যাজিক গাড়ি অবাধে যাত্রী তুলছে। অথচ এদের যাত্রী তোলার কোনও অনুমতি নেই। প্রতিবাদ করলেই বাস মালিকদের মারধর করা হচ্ছে। বার বার জানিয়েও ওই সব ছোট গাড়ির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করছে না পরিবহণ দফতর ও পুলিশ। শাসক দলের ছত্রছায়াতেই ওই সব বেআইনি গাড়ির পোয়াবারো। এই অবস্থায় দিন দিন পরিবহন ব্যবসা লোকসানের মুখে পড়ছে। তাই বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের আশ্রয় নিতে হল।’’
এ দিন সকাল থেকেই মহকুমার একাধিক রুটের শতাধিক বাস বন্ধ ছিল। এমনকী ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াত করে, এমন বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাসও ছিল ধর্মঘটের আওতায়। সে বাসগুলিও চলেনি। বাস ধর্মঘটের ফলে ধুলিয়ান, ফরাক্কা ও সুতির যাত্রীরা পথে নেমে সমস্যায় পড়েন। ছোট গাড়িতে চেপে তাঁদের গন্তব্যে যেতে হয়। ভিড়ে ঠাসা ওই সব গাড়িতে অনেকেই বাদুড়ঝোলা অবস্থায় যাতায়াত করতে হয়েছে। মঙ্গলবারই পথ দুর্ঘটনায় সাত জন লছিমন যাত্রীর প্রাণ গিয়েছে। ওই দিন ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর সুতি এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই নিকট অতীতের সেই স্মৃতি যাত্রীরা না ভোলেননি। তা সত্ত্বেও এ দিন বাস না পেয়ে তাঁদের বাধ্য হয়ে ওই লছিমনেই উঠতে হয়। আহিরণ যাবেন বলে এ দিন বাধ্য হয়ে লছিমনে ওঠেন। তাঁর কথায়, ‘‘লছিমন এমনিতেই বিপজ্জনক। কিন্তু বাস না চলায় বাধ্য হয়েই লছিমনে উঠতে হল।’’ তবে স্থানীয় হাই স্কুলের এক শিক্ষক অবশ্য বলেন, “ছোট গাড়িগুলি মানুষের যাতায়াত যথেষ্ট সহজ করে দিয়েছে। কারণ গ্রামের অনেক সরু রাস্তায় কোনও বাস চলে না। সেখানে এই ছোট গাড়িগুলিতে চেপে লোকজন যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু ওই সব গাড়ির আইনি বৈধতা নেই। দুর্ঘটনা ঘটলে বিমার সুবিধা মিলবে না।’’ তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত ম্যাজিক গাড়ির মালিক সংগঠনের সভাপতি আজামুল শেখ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ম্যাজিক গাড়ি চলছে ‘কনট্রাক্ট ক্যারেজ’ হিসেবে। কোনো বেআইনি নেই তাতে।’’ জেলার পরিবহন আধিকারিক চিন্তামনি প্রামাণিক বলেন, “ধর্মঘটের ব্যাপারে পরিবহন দফতরকে কিছুই জানায়নি বাস মালিকেরা। এ ব্যাপারে আমি এখনই কিছু বলতে পারছি না।”
অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়ের তোলা ছবি।