বছর খানেক আগেই জেলার হাই স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল তৈরিতে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শুরু হয়। সেই প্রকল্প সফলও হয়। তারপর স্বল্প সংখ্যক প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাদ্রাসা, জুনিয়র হাই মাদ্রাসা, মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র, শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতেও মিডে ডে মিল রান্নায় এলপিজির ব্যবহার চালু হয়। সেখানেও সাফল্য মেলার পর সব স্কুলেই মিড ডে মিল রান্নায় এলপিজি চালুর সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন। গ্যাসের সংযোগের জন্য জেলা প্রশাসন এককালীন অনুদানও দেবে। নদিয়ার জেলাশাসক বিজয় ভারতী জানান, প্রাথমিক বা উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে নিজস্ব তহবিলের পরিমান কম থাকে। তাই প্রশাসন গ্যাসের সংযোগের জন্য এককালীন সাহায্য করবে। তাছাড়া গ্যাসের সংযোগের জন্য এককালীন কয়েক হাজার টাকা ‘সিকিউরিটি মানি’ জমা রাখতে হয়। ‘ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন’ যাতে সামাজিক দায়বদ্ধতা খাত থেকে ওই টাকা দেয়, তার জন্য চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হবে। তাছাড়াও মিড ডে মিল প্রকল্পের মাধ্যমেও স্কুলগুলিকে সাহায্যের কথা ভাবা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৩৩১টি জুনিয়র হাই স্কুল, মাদ্রাসা, হাই মাদ্রাসা, মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। আর জেলায় ৩২৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিশু শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে ১১৯টি স্কুলে এলপিজি সংযোগ রয়েছে। বাকি ৩১৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে এলপিজি সংযোগ নেই। ওই স্কুলগুলিতেও এলপিজি সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। করিমপুরের জমশেরপুর ভূপেন্দ্রনারায়ণ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাপসকুমার গঙ্গোপাধ্যায় জানান, গত জুলাই মাস থেকে তাদের স্কুলে গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না করা হচ্ছে। গ্যাসের সাহায্যে মিড ডে মিল রান্না করার ফলে আর্থিক দিক থেকে অনেকটাই সাশ্রয় হচ্ছে। তাছাড়াও কাঠের জ্বালানিতে ধোঁয়ায় গোটা স্কুল ঢেকে যেত। সে সব সমস্যা দূর হয়েছে। কতটা সাশ্রয় হচ্ছে? প্রধান শিক্ষক জানালেন, কাঠের জ্বালানিতে রান্না করতে মাসে চার থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হত। এখন তা সাড়ে তিন থেকে চার হাজারের মধ্যে নেমে এসেছে। সাশ্রয় হওয়া অর্থে পড়ুয়াদের মাসে একদিন মাংস ভাত খাওয়ানো হয। ধুবুলিয়ার রুকুনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ নন্দী জানান, জ্বালানি দিয়ে রান্নার ফলে নানা ধরনের সমস্যা হয়। গ্যাসে মিড ডে মিল করলে ভাল হয়। তবে গ্যাসের সংযোগের জন্য আর্থিক সংস্থান অনেকেরই নেই। প্রশাসন ব্যবস্থা করলে ভালই হবে।