গরু পাচারে লাগাম, ঈদের আগে দর চড়ছে ও পারে

গত কয়েক মাসে মুর্শিদাবাদের সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারে কিছুটা লাগাম পড়েছে। বিএসএফের দাবি অন্তত এমনটাই। আর তার জেরেই কোরবানির আগে বাংলাদেশে বেড়ে গিয়েছে গো-মাংসের দাম।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৫৮
Share:

Advertisement

গত কয়েক মাসে মুর্শিদাবাদের সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারে কিছুটা লাগাম পড়েছে। বিএসএফের দাবি অন্তত এমনটাই। আর তার জেরেই কোরবানির আগে বাংলাদেশে বেড়ে গিয়েছে গো-মাংসের দাম।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে পাচারকারীরা মুর্শিদাবাদে চলে আসছে গরু নিতে। সীমান্তে কড়াকড়ি শুরু হতেই গত এক সপ্তাহে বিএসএফের হাতে নিমতিতা এলাকাতেই ধরা পড়েছে শতাধিক গরু-সহ ১৪ জন বাংলাদেশি। তাদেরই একজন শিবগঞ্জের সোহেল রানার কথায়, ‘‘মাস দেড়েক আগেও বাংলা দেশে গো-মাংসের দাম ছিল ৩১০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮০ টাকা। চাঁপাই নবাবগঞ্জ এলাকার ৩০টিরও বেশি ট্যানারি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’’

Advertisement

ধৃতদের আর একজন শিবগঞ্জের দশরসিয়া গ্রামের বেনজির আলমের কথায়, ‘‘ইন্ডিয়া থেকে আগের মতো আর গরু যাচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশে এখন গরুর ব্যাপক চাহিদা। তাই নিজেরাই কোরবানির আগে মোটা অঙ্কের লাভের আশায় সীমান্ত পেরিয়ে সুতির মহলদারপাড়ায় এসেছিলাম। সেখান থেকেই গরু নিয়ে দেশে ফেরার সময় বিএসএফ ধরে ফেলে।’’ বিএসএফের ২০ নম্বর ব্যাটেলিয়নের এক আধিকারিক রাজকুমার বাসাট্টা জানান, বাংলাদেশের গরুর চাহিদার কথাও তাঁরাও শুনেছেন। কোরবানির আগে বাংলাদেশের কিছু পাচারকারী গরু নিতে সীমান্ত পেরিয়ে এপারে ঢুকে পড়ছে। ফলে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। কড়া নজর রাখা হচ্ছে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতেও।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষাকালে গরু পাচারের প্রবণতা সবথেকে বেশি বেড়ে যায়। কারণ সেইসময় গঙ্গা–পদ্মায় প্রচুর জল থাকে। মুর্শিদাবাদের মতো নদীঘেরা সীমান্তে নজরদারি চালানোও মুশকিল হয়ে পড়ে। বিএসএফের তরফে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গ থেকে ২০১০ সালে ১ লক্ষ ১৩৮১টি গরু পাচারের সময় আটক করা হয়েছিল। গ্রেফতার করা হয়েছিল ২৮৭ জন পাচারকারীকে। ২০১১ সালে ১.৩৫ লক্ষ গরু-সহ ধরা পড়েছে ৪১১ জন পাচারকারী। ২০১২ সালে আটক করা গরুর সংখ্যা ১.২০ লক্ষ। পাচারকারী ধরা পড়ে ৩৯৫ জন। চলতি বছরে জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সীমান্তে প্রায় ৯০ হাজার গরু-সহ ধরা পড়েছে ৪০০ জন পাচারকারী।

Advertisement

নজরদারি বাড়ানো হলেও সীমান্ত পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কিছু সমস্যা রয়েছে সে কথা কবুল করছেন বিএসএফের এক কর্তা। তিনি জানান, জওয়ানের ঘাটতি রয়েছে। সীমান্তে দু’টি নজরদারি চৌকির মধ্যে ব্যবধানও প্রায় পাঁচ কিলোমিটার করে। ফরাক্কা থেকে লালগোলা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। সেখানে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে নদী। বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি নেই। ওই আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘এত কিছু প্রতিবন্ধকতার পরেও সীমান্তে পাচার একেবারে বন্ধ করে দেওয়াটাই আমাদের কাছে এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement