জংলা পোশাকের আড়ালে চলত অপারেশন

মাঝারি মাপের একটা চাকু, কিংবা দেশি একনলা— তা অবশ্য সীমান্তের যে কোনও ছোট-মাঝারি দুষ্কৃতীর সর্বক্ষণের সঙ্গী। টুকটুক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধরা পড়ার পরে মাজদার শেখের আরও একটা পরিচয় পাচ্ছে পুলিশ— তার সব থেকে বড় অস্ত্র চাকু-একনলা নয়, বিএসএফের জংলা পোশাক।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:০১
Share:

এই পোশাক পরেই চলত ছিনতাই। —ফাইল চিত্র

মাঝারি মাপের একটা চাকু, কিংবা দেশি একনলা— তা অবশ্য সীমান্তের যে কোনও ছোট-মাঝারি দুষ্কৃতীর সর্বক্ষণের সঙ্গী। টুকটুক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধরা পড়ার পরে মাজদার শেখের আরও একটা পরিচয় পাচ্ছে পুলিশ— তার সব থেকে বড় অস্ত্র চাকু-একনলা নয়, বিএসএফের জংলা পোশাক।

Advertisement

আর তার জেরেই সম্প্রতি তিন-চারটি ঘটনায় ছিনতাইবাজ ‘বিএসএফের’ পরিচয়টাও পেয়ে গিয়েছে পুলিশ।

ছিনতাইয়ের দিন তিনেকের মধ্যেই উদ্ধার হয়েছিল টুকটুক। আর, ধরা পড়ার পরে ঘণ্টা খানেকের জেরাতেই মাজদার কবুল করেছে, রহস্যময় ‘ছিনতাইবাজ বিএসএফ’ কর্মীটি আসলে সেই।

Advertisement

পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু দিন ধরে বাংলাদেশে চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিল সে। শুক্রবার গ্রেফতারের সময়ে পুলিশ তার কাছ থেকে প্রায় ১০ লিটার ‘কোডিন ফসফেট মিক্সার’ও উদ্ধার করেছে। যা মাদক হিসেবেই পাচার করা মতলব করেছিল সে।

বুধবার রাতে ইসলামপুরের নসিপুরের বাসিন্দা মুস্তাকিম বিশ্বাসের টুকটুকে যাত্রী সেজে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে উঠেছিল মাজদার। তার পর পরে চালককে মারধর করে নামিয়ে দিয়ে টুকটুকটি ছিনিয়ে চম্পট দিয়েছিল। ওই রাতেই পুলিশ রানিনগরের রামনগর এলাকা থেকে বাচ্চু শেখ নামে এক জনকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করেই মাজদারের ‘অপারেশনের’ কথা জানতে পারে পুলিশ। শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাড়িতেই ছিল ছিনতাই হওয়া টুকটুকটি। এরই মধ্যে সে টুকটুকের গায়ে নানা রকমের স্টিকার ও রংয়ের প্রলেপ দিয়ে দিয়েছিল। তবে, ছিনতাই হওয়া টুকটুকটিকে চিনতে অসুবিধা হয়নি পুলিশের।

জেরার মুখে পুলিশ জানতে পেরেছে, সীমান্তে বহু ছিনতাই ও তোলাবাজির সঙ্গে মাজদারের যোগ রয়েছে। আর তার অপারেশন চালানোর প্রদ্ধতিও ছিল বেশ অভিনব। দাগী অপরাধীরা অনেক সময় অপারেশনের সুবিধার জন্য বিএসএফের জংলা রংয়ের পোশাক ব্যবহার করে। মাস খানেক আগে ওই জংলা পোশাক পরেই অনায়াসে সেনা সেজে পাকিস্তানি জঙ্গিরা ঢুকে পড়েছিল পাঠানকোটে বায়ু সেনার গাঁটিতে। সেই পোশাকের আড়ালেই ছিনতাই চালাচ্ছিল মাজদারও।

পুলিশের জেরায় সে স্বীকার করেছে, সীমান্তের বাজার থেকে জোগাড় করেছিল বিএসএফের পোশাক। আর সেই পোশাক পরেই সে ছিনতাই করত। মাস কয়েক আগে রানিনগরে জংলা পোশাক পড়ে রাস্তায় একটি গাড়িকে দাঁড় করিয়ে ছিনতাই করেছিল মাজদার। ওই পোশাক পরে সে মাঝেমধ্যেই পাচারকারীদের কাছ থেকেও টাকা তুলত বলেও জানা গিয়েছে।

ডোমকলের এসডিপিও সুরজিৎ কুমার দে বলেন, ‘‘জংলা পোশাকের আড়ালেই কারবার চালাত মাজদার। এ ব্যাপারে থানাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।’’

তবে এই পদ্ধতি নতুন নয়। মাস আড়াই আগে বিএসএফের পোশাক পরে রাজপথে আটকেছিল ব্যবসায়ীর গাড়ি। গয়না মোবাইল ফোন নগদ টাকা ছিনিয়ে চম্পট দিয়েছিল ছিনতাইকারীরা। ইসলামপুর থানা এলাকার গোয়াসে ওই ঘটনার পর পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও গ্রেফতার করতে না পারলেও মাস দেড়েক আগে রানিনগরের এক সিভিক ভলিন্টিয়ার্সকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিএসএফের পোশাকের কথা স্বীকার না করলেও তার ফোনের সূত্র ধরে পুলিশের জালে ধরা পড়ে ছিনতাইকারী দলের সদস্য বিশ্বজিত সাহা। ঘটনার কথা স্বীকার করলেও সেই সময়ে দলের পাণ্ডার খোজ পায়নি পুলিশ। এখন বোঝা যাচ্ছে মাজদার সেই চক্রের মূল পাণ্ডা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement