লোকে ঠাকুর দেখতে আসবে কি না সে ভয়টা ছিলই। কিন্তু তা যে তাঁদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাবে তা কল্পনা করতে পারেননি পুজো উদ্যোক্তারা। টিকিটের দাম করা হয়েছিল ৫ টাকা। তাই কেটে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ ঠাকুর দেখেছেন। তেমনিই দাবি ক্লাব কর্তাদের। তাই এ বারের সাফল্য দেখে আগামী বছরও টিকিট কেটে ঠাকুর দেখার নিয়ম পাকা করে ফেলেছেন রঘুনাথগঞ্জের প্রতাপপুর জাগ্রত সঙ্ঘ।
প্রতি বছরই জাগ্রত সঙ্ঘের বাজেট থাকে ৪ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এ বারে তা ছিল ৮-১০ লক্ষ টাকা। খরচ তুলতে তাই টিকিট কেটে প্রতিমা দেখার ব্যবস্থা করেছিল তাঁরা। পুজো কমিটির সভাপতি মুক্তিপ্রসাদ ধর বলেন, ‘‘শহর থেকে অনেকটা দূরে প্রতাপপুরে দর্শনার্থীরা শেষ পর্যন্ত আসবেন কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। কিন্তু ৬০ হাজারে পৌঁছবে তা ভাবিনি। আগামী বছরও দর্শনার্থী টানতে ভাল থিম গড়ার ভাবনা চিন্তা হচ্ছে। আমরা চাই বড় ক্লাবগুলিও এই ব্যবস্থা চালু করুক।’’
জঙ্গিপুরের আইনজীবী অরুণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দুর্গা পুজোয় হাজার টাকার বেশি চাঁদা দিতে হয় বিভিন্ন পুজোয়। তার জায়গায় চাঁদা সংগ্রহে ক্লাবের সদস্যদের এই ভাবনা অবশ্যই প্রশংসার।’’
রঘুনাথগঞ্জ ওই নিয়ম যারা প্রথম চালু করেছিল সেই কিশোর বাহিনী এ বছর ২৬ হাজার টাকা তুলেছে। কিশোর বাহিনীর সম্পাদক কার্তিক হালদার বলেন, ‘‘কম বাজেট বলে টিকিটও ছিল ৩ টাকা। কিন্তু সিংহভাগ দর্শনার্থীদের জাগ্রত সঙ্ঘ টেনে নেওয়ায় আমরা সে ভাবে দর্শনার্থী টানতে পারিনি।’’ তবে থিমে নতুনত্ব এনে আগামী বছর দর্শনার্থীদের তাঁদের মণ্ডপে টেনে আনবেন বলে আশা তাঁর। একই ভাবে জঙ্গিপুর হাসপাতাল সর্বজনীন পুজোর উদ্যোক্তারা এ বারে ৩ টাকা টিকিট করেছিলেন। তার থেকে ২৩ হাজার টাকা উঠেছে।
তবে প্রচেষ্টা যত ভাল হোক টিকিট কেটে মানুষের আনন্দে ভাগ বসাতে চান না জঙ্গিপুরের সাহেববাজার স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন। ক্লাবকর্তা সেই তাপস পাল বলেন, ‘‘ক্লাবে ১৩০ জন সদস্য। তাঁরা দেড় থেকে দু’হাজার টাকা দেন। এ ছাড়াও বিজ্ঞাপন ও বিশিষ্টদের দান থেকে টাকা আসে। আনন্দ সবার জন্য। ভাবনাটাও সবার জন্য। তাই টিকিট কেটে প্রতিমা দর্শনে সায় নেই আমাদের।’’
সম্মতিনগর সর্বজনীন দুর্গা পুজোতে এ বারের বাজেট ছিল সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। ক্লাবকর্তা মুকুল দাস বলেন, ‘‘টিকিট করে পুজোর উৎসবকে সীমায়িত করার পক্ষপাতী নই আমরা। রবিবার বিসর্জনের দিন ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দিয়েছেন এক শুভানুধ্যায়ী। দর্শনার্থীর সংখ্যা বা লাভ লোকসানের হিসেব কষে বাঙালির শারদোৎসবের আনন্দকে মাপতে চাই না আমরা।’’
দলবদল। আজ এ দলে, তো কয়েক দিন পরে অন্য দলে। দিনকয়েক আগে ডোমকলের জিৎপুর পঞ্চায়েতের তিন কংগ্রেস কর্মী জেলা সদর বহরমপুরে গিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। পরে আবার নিজের দলে তাঁরা ফিরে আসেন। বুধবার সেই তিন পঞ্চায়েত সদস্য ফের দল পরিবর্তন করলেন। এ দিন মুর্শিদাবাদের ডোমকলের এসডিও মোড়ের শাসকদলের একটি জনসভায় জিৎপুর পঞ্চায়েত এলাকার ওই তিন কংগ্রেস কর্মী হিয়ার আলি, মহম্মদ আবদুল্লা ও তোজাম্মেল হক হাজির ছিলেন। এ দিন সভা মঞ্চে তাঁদের ডেকে জেলা তৃণমূলের সভাপতি মান্নান হোসেন দলীয় পতাকা তুলে দেন।
মান্নান হোসেন বলেন, ‘‘উন্নয়নের শরিক হওয়ার জন্য কংগ্রেসের কর্মীরা আমাদের দলে যোগ দিলেন।’’ দলত্যাগী ওই কর্মীদের স্ত্রী কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পঞ্চায়েতের সদস্য হয়েছেন। ডোমকলের কংগ্রেস নেত্রী শাওনি সিংহ রায়ের দাবি, ‘‘মিথ্যা মামলার ভয়ে আমাদের কয়েক জন কর্মীরা তৃণমূলে গিয়েছেন। ওঁরা
অনেক আগেই তৃণমূলে চলে গিয়েছিলেন। এ দিন মান্নান হোসেন আবার কুমির ছানা দেখালেন। ধান্দাবাজ ওই কর্মীদের স্ত্রী’রা আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।’’