দোষীদের ধরার দাবিতে অবরোধ

সহপাঠী খুনে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রায় দু’ঘণ্টা জঙ্গিপুর-লালগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করল তেঘরি খামড়া ভাবকি হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। শুক্রবারের ওই ঘটনায় শিকেয় ওঠে স্কুলের পঠনপাঠন। বিক্ষোভকারী ছাত্রদের অভিযোগ, খুনের সঙ্গে জড়িত দুই প্রধান অভিযুক্ত তৃণমুলের কর্মী বলেই পুলিশ তাদের ধরছে না।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

রঘুনাথগঞ্জ শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৪ ০০:৩০
Share:

বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। ছবি: অর্কপ্রভ চট্টোপাধ্যায়।

সহপাঠী খুনে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রায় দু’ঘণ্টা জঙ্গিপুর-লালগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করল তেঘরি খামড়া ভাবকি হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। শুক্রবারের ওই ঘটনায় শিকেয় ওঠে স্কুলের পঠনপাঠন। বিক্ষোভকারী ছাত্রদের অভিযোগ, খুনের সঙ্গে জড়িত দুই প্রধান অভিযুক্ত তৃণমুলের কর্মী বলেই পুলিশ তাদের ধরছে না। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদের। পরে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ছাত্রদের অবরোধ তুলে নিতে বললে অবরোধ উঠে যায়।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ইঞ্জামুল শেখকে ৮ জুন বিকেলে ফোন করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ১১ জুন বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ওই ছাত্রের ক্ষতবিক্ষত দেহ মেলে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ইঞ্জামুলের মামা, কাকা-সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু স্কুলের ছাত্রদের অভিযোগ, খুনের ঘটনায় মূল দুই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না। দ্বাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়ার কথায়, “ গ্রামের সবাই জানে মূল ওই দুই অভিযুক্ত তৃণমূলের কর্মী। তাই ঘটনার এক মাস পরেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। ওই ছাত্রের নৃশংস খুনের ঘটনায় আমরা সকলেই ক্ষুব্ধ এবং আতঙ্কিত।” অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর ক্ষোভ, “এক স্কুল ছাত্রকে খুনের ঘটনায় জড়িতরা শাসক দলের লোক বলে এ ভাবে ছাড়া পেয়ে যাবে! এটা কেউই মন থেকে মেনে নিতে পারছে না। আমাদের সঙ্গে স্কুল শিক্ষক থেকে গ্রামবাসী সকলেই আছেন।” খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের ঘিরে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। স্কুলের পোশাক পরে স্কুল থেকে বেরিয়ে এসে এ ভাবে ছাত্রদের সড়ক অবরোধের পিছনে শিক্ষকদের উস্কানি রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পুলিশ। এই নিয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকদের বচসাও বাধে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “স্কুলে এসে এভাবে ছাত্ররা পথে নেমেছে। তার দায় এড়াতে পারেন না প্রধান শিক্ষক। এই অবস্থায় যদি কোনও অঘটন ঘটে তবে অভিভাবকদের কাছে কী জবাব দেবেন স্কুল কর্তৃপক্ষ?”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষত রঞ্জিত রায় বলেন, “স্থানীয় কিছু ছাত্র স্কুল ছাত্রদের বের করে নিয়ে গিয়েছে। আমাদের নিষেধ শোনেনি তারা।” স্কুল ছাত্রদের বক্তব্যকেই সমর্থন করেছেন। জেলার পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর বলেন, “ওই খুনের ঘটনায় ৫ জন ধরা পড়েছে। বাকি দুই অভিযুক্তকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

Advertisement
(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন