নতুন কাপড় কিনতে দোকানে ভিড়। করিমপুরের।—নিজস্ব চিত্র।
পান ও পাট, এই দুই অর্থকরি ফসলের ভাল দাম পুজোর আগে হাসি ফুটিয়েছে কৃষিজীবী পরিবারের মুখে। সাধারণ মানুষের হাতে কিছু টাকা আসায় চাঙ্গা হয়েছে বাজার। কুরবানির ইদ এবং দেবীপক্ষ শুরুর আগেই বেচাকেনা ভাল হওয়ায় খুশি করিমপুরের মতো সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীরাও।
কৃষিপ্রধান এই এলাকার অর্থনীতি প্রধানত পান, পাটের মতো কৃষিজ ফসলের উপরে নির্ভরশীল। হাতে গোনা কিছু মানুষ সরকারি চাকরি করলেও ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী। এ বছরের অতিবর্ষণে বেশির ভাগ সব্জি চাষের ক্ষতি হলেও শেষ অবধি পাট ও পানের ভাল দাম পাওয়া গিয়েছে। তাতেই পুজোর আগে চাঙ্গা হয়েছে বাজার।
হোগলবেড়িয়ার রামনগরের দীপক প্রামাণিকের এক বিঘা সব্জি জলে ডুবে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তায় পড়েছিলেন দীপকবাবু। কিন্তু পাটের দাম স্বস্তি দিয়েছে তাঁকে। পুজোর আগে ফসল বেচে পরিজনদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিঘা চারেক জমি চাষ করে সংসার চালাই। এক বিঘা জমির বেগুন, পটল, লঙ্কা জলে ডুবে গিয়েছিল। তবে ফলন কম হলেও এ বার কুইন্টাল পিছু চার হাজার টাকায় পাট বেচতে পেরেছি। সেই টাকা পুজোর আগে কাজে লেগেছে।”
মুরুটিয়ার কেচুয়াডাঙার পান চাষি সুনীল ঘোষ বা নাজিরপুরের পাট চাষি বিপদ মণ্ডলেরা জানিয়েছেন, যে পানের দাম অন্য বছর এই সময় বা ছ’মাস আগেও দুশো টাকা ছিল সেই পান এখন প্রায় সাতশো টাকায় বিকোচ্ছে। ফলে নগদ টাকায় পুজোর বাজার সেরেছেন অনেকেই। দেবীপক্ষের আগে এমন বিকিকিনিতে খুশি করিমপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ ঘোষ, বিমান মণ্ডলেরা। বিমানবাবু জানান, বেচাকেনার প্রায় পুরোটাই চাষের ভালমন্দের উপরে নির্ভর করে। সব্জি চাষে কৃষিজীবীরা মার খেলেও পাট-পানের যুগলবন্দি অনেকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তাঁরা মানছেন, ‘‘অনেক বছর পর এ বছর ভাল বিক্রি হয়েছে।’’
এ বছর কোন ধরনের পোশাকের বেচাকেনা বেশি?
করিমপুরের ব্যবসায়ীরা জানালেন, ঢাকাই জামদানি, খেস, সিল্ক ও হ্যান্ডলুমের শাড়ির বিক্রি বেশি। দেদার বিকোচ্ছে মেয়েদের ‘লং চুরিদার’। ছেলেদের জিন্স ও টিসার্ট। করিমপুরের মনোহারি ব্যবসায়ী রাকেশ সরকার বেশ উৎসাহের সঙ্গে জানালেন, রমজানের ইদে ভাল বিক্রি হয়নি। কুরবানির ইদে সেই ঘাটতি অনেকটা মিটেছে। তবে এ বারের পুজোর কেনাকাটা আমাদের অনেকটাই নিশ্চিন্ত করেছে। সারাদিন দোকানে ভিড় লেগেই রয়েছে। করিমপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিধান দত্ত বলেন, “এলাকার মধ্যবিত্ত ও গরিব চাষিদের ইচ্ছে থাকলেও পুজোর খরচ বের করতে তাঁরা হিমশিম খান। তবে পাট ও পানের উপর নির্ভরশীল বেশিরভাগ মানুষ বেশি দামে ফসল বিক্রি করতে পেরেছেন। বাড়তি টাকা হাতে এসেছে।’’ সব মিলিয়ে খুশি কৃষিজীবী পরিবারের সদস্যেরা। খুশি ব্যবসায়ীরাও।