পরীক্ষার আগে হস্টেলের মাঠে মেলা নিয়ে বিতর্ক

পরীক্ষার আর এক সপ্তাহ বাকি নেই। তার প্রস্ততি চলছে জোরকদমে। এরই মধ্যে হস্টেল লাগোয়া জমিতে মেলার অনুমতি দিয়ে বিতর্ক তৈরি করলেন ফরাক্কার সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজের অধ্যক্ষ শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:১৪
Share:

পরীক্ষার আর এক সপ্তাহ বাকি নেই। তার প্রস্ততি চলছে জোরকদমে। এরই মধ্যে হস্টেল লাগোয়া জমিতে মেলার অনুমতি দিয়ে বিতর্ক তৈরি করলেন ফরাক্কার সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজের অধ্যক্ষ শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে ওই মেলা বন্ধ করতে ফরাক্কার বিডিও এবং পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পড়ুয়াদের অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে মেলার অনুমতি দিয়েছেন অধ্যক্ষ। তাঁদের কথায়, প্রথম বর্ষের অনার্স পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে। পাশের পরীক্ষা শুরু ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। ফরাক্কা কলেজের প্রায় ৪০ জন পড়ুয়া হস্টেলে থেকে পরীক্ষা দেবেন। পড়াশোনার চাপ অনেকটাই। এই অবস্থায় ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মেলার কথা শুনে ঘুম উবেছে তাঁদের। অধ্যক্ষের এমন কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের স্থানীয় নেতারাও। প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে কলেজ চত্বরে ওই মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

তা হলে অধ্যক্ষ কীসের ভিত্তিতে অনুমতি দিলেন?

Advertisement

শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এর উত্তরে যে যুক্তি শুনিয়েছেন তাতে হতবাক অনেকেই। অধ্যক্ষের কথায়, ‘‘হস্টেলের ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার জন্য ফর্মপূরণ করা মাত্র তাঁরা আর কলেজের পড়ুয়া থাকেন না। হস্টেলে তাঁদের থাকার কথাও নয়! বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনা করা উচিত।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মেলার অনুমতিতে স্পষ্ট বলা আছে, বিডিও ও ফরাক্কা থানার পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে তা কার্যকর করা হবে।’’ প্রশাসন মেলা করার অনুমতি না দিলে তাঁদেরই পরবর্তী পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ফরাক্কায় এই কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রাক্তন আবুল হাসনাত খান মনে করেন অধ্যক্ষ মোটেও ঠিক কথা বলছেন না। তিনি বলেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ না দেখে এ ভাবে মেলার অনুমতি দেওয়ার অধিকার অধ্যক্ষের নেই। তিনি যে যুক্তি দিয়েছেন তা-ও অবান্তর।’’ প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সাহাজাদ হোসেন বিডিওকে কলেজ চত্বরে মেলার অনুমতি না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, ‘‘অধ্যক্ষ মেয়েদের হস্টেলের উপরতলায় ঘর দখল করে দিনের পর দিন থাকেন কী করে?’’

কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অমল মিশ্রও মনে করেন মেলার অনুমতি দিয়ে ঠিক করেননি অধ্যক্ষ। ফরাক্কার বিডিও কেশাং ওয়াঙ ভুটিয়া বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement