বাতিহীন সেতুতে বাড়ছে ইভটিজারদের দৌরাত্ম্য

বিরাট অঙ্কের বিদ্যুতের বিল বাকি। তাই বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। ফলে সন্ধে নামলে অন্ধকারে ডুবে যায় ভাগীরথী সেতু। সেই সুযোগকে হাতিয়ার করে দৌরাত্ম্য বাড়াছে দুষ্কৃতীরা। ফলে পথ চলা দায় হয়েছে স্থানীয়দের। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে টিউশন নিয়ে ফেরা ছাত্রীরা। বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০০:৫৯
Share:

রাত নামলেই এ ভাবেই অন্ধকারে ডুবে যায় রঘুনাথগঞ্জের ভাগীরথী সেতু। —নিজস্ব চিত্র।

বিরাট অঙ্কের বিদ্যুতের বিল বাকি। তাই বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। ফলে সন্ধে নামলে অন্ধকারে ডুবে যায় ভাগীরথী সেতু। সেই সুযোগকে হাতিয়ার করে দৌরাত্ম্য বাড়াছে দুষ্কৃতীরা। ফলে পথ চলা দায় হয়েছে স্থানীয়দের। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে টিউশন নিয়ে ফেরা ছাত্রীরা। বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

Advertisement

টিউশন নিয়ে ফেরা ছাত্রীদের অভিযোগ, রঘুনাথগঞ্জ শহর থেকে টিউশন নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ওই সেতুর উপর দিয়ে সাইকেলে চেপে জঙ্গিপুর শহরে ফেরে তারা। সেতুর ঠিক মাঝ বরাবর ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকে জনা পাঁচেক ছেলে। তাদের দেখামাত্র নানা টিটকারি মারতে থাকে। পিছু ধাওয়া করতে করতে জঙ্গিপুর পাড় পর্যন্ত যায়। অন্ধকার সেতুতে কোনও পথচারী কেউ থাকে না। তাই প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না ওই ছাত্রীরা। মাসখানেক ধরে এমনটা চললেও হেলদোল নেই পুলিশের। ওই পথেই তাদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয় বলে ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও পাচ্ছে না ওই কিশোরীরা।

শুধু ভাগীরথী সেতু নয়, উমরপুর থেকে জঙ্গিপুরে যেতে গেলে তিন তিনটি সেতু পেরোতে হয়। কোনওটাতেই আলো নেই। ফলে শুধু যে ইভটিজিং বাড়ছে তাই নয়, দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা নিয়ে সংকটে পড়েছেন পথচারীরা। খড়খড়ি সেতুতে আলো জ্বালানোর কোনও ব্যবস্থা নেই। গত সাত দিনে তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে। আহত হয়েছেন চার রিকশা যাত্রী। ভাগীরথী ও মিঁয়াপুর রেল সেতুতে বিদ্যুতের সংযোগ থাকলেও দু’টি সেতুর কোনওটাতেই দীর্ঘদিন ধরে আলো জ্বলে না।

Advertisement

রঘুনাথগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ দফতরের সহকারী বাস্তুকার দিবেন্দু নন্দী জানান, মিঁয়াপুরের রেলসেতুর বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকের বিডিওর নামে। বিদ্যুতের বিল বাবদ বকেয়া না মেলায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিপুর শহরের ভাগীরথী সেতুর বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে জঙ্গিপুরের পুরপ্রধানের নামে। সেখানেও বিরাট অঙ্কের বিদ্যুতের বিল বাকি রয়েছে।

জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান মোজাহারুল ইসলাম জানান, ভাগীরথী সেতুতে আলোর ব্যবস্থা থাকলেও বেশির ভাগ আলোই খারাপ। সেতুটি রাজ্য পূর্ত দফতরের। পুনরায় সেতুর সব তার ও আলো বদলাতে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা লাগবে। অত টাকা খরচ করে নিয়মিত মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল মেটানো পুরসভার পক্ষে সম্ভব নয়।’’ তিনি বলেন, ‘‘তবে পুজোর আগে কম খরচে সেতুতে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা ভাবা হচ্ছে।’’

এ দিকে, ওই সড়ক পথের বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা এতটাই বেহাল যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা পূর্ত সড়ক দফতরের এক কর্তা অবশ্য দাবি, ভাগীরথী সেতু-সহ উমরপুর থেকে লালগোলা পর্যন্ত ওই রাজ্য সড়কটি পূর্ত দফতরের হলেও ওই রাস্তার উপর রঘুনাথগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে জঙ্গিপুর পুরসভা নিয়মিত টোল ট্যাক্স বাবদ মোটা টাকা আদায় করছে। সেটা সম্পূর্ণ বেআইনি। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বহরমপুর পুরসভাও এই ভাবে টোল ট্যাক্স আদায় করে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে আপত্তি তুলে মামলা করায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বহরমপুর পুরসভা আর টোল ট্যাক্সের সে টাকা হাতে পায় না। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে সে টাকা জমা করা হয়। তাঁর কথায়, ‘‘জঙ্গিপুর পুরসভা যখন টোল ট্যাক্স আদায় করছে তখন বাসস্ট্যান্ড থেকে জঙ্গিপুর শহর পাড় পর্যন্ত রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও নিতে হবে জঙ্গিপুর পুরসভাকেই।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement