বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড়, অদূরেই ঘন বাঁশ ঝাড়। নদীও কাছেই। তার দূ’ধারে গাছাগাছালির ভিড়ও কম নয়। শেয়াল-ভামের সেই আদর্শ আস্তানায় প্রান্তিক গ্রাম শান্তিপুরের সদোকিপাড়া চর।
বৃহস্পতিবার রাতে, সেই চর ছোঁয়া গ্রাম থেকেই শেয়ালে নিয়ে গেল মাস দেড়েকের এক শিশুকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে ঘরে শুয়েছিলেন শিশুটির মা চম্পা বিশ্বাস। তিনি বলছেন, ‘‘রাত আটটা নাগাদ, মেয়ে ঘুমোচ্ছে দেখে শৌচাগারে গিয়েছিলাম। ফিরে দেখি একটা শেয়াল মুখে করে কী একটা নিয়ে ঘর থেকে বেরোচ্ছে। তখনও বুঝতে মেয়েকে নিয়ে চলে যাচ্ছে শেয়ালটা।’’ ঘরে ঢুকেই শুন্য কাট দেখে মাথা ঘুরে গিয়েছিল তাঁর, মেয়ে কোথায়? রাত ঘুরে গেলেও সেই মেয়ের আর খোঁজ মেলেনি।
মাটির দাওয়ার পাশের ঘরেই অবশ্য ছিলেন চম্পার শাশুড়ি। বড় নাতিকে নিয়ে টিভি দেখছিলেন তিনি। টিভির আওয়াজে বুঝতেই পারেননি কখন খোয়া গিয়েছে তাঁর সাধের নাতনি। ক্ষোভ তাই আছড়ে পড়ছে বৃদ্ধার গলায়, ‘‘সাধ করে মেয়েটার নাম রেখেছিলাম কবিতা, সব শখ মুছে গেল গো!’’
খবর পেয়ে স্থানীয় বাজার থেকে ছুটে আসেন কবিতার বাবা রামপ্রসাদ। তাঁতশ্রমিক রামপ্রসাদ বলেন, ‘‘আমাদের উঠোনে শেয়ালের আনাগোনা নতুন নয়। কখনও সখনও হাঁস-মুরগি নিয়েও গিয়েছে। কিন্তু মেয়েকে য়ে তুলে নিয়ে যাবে তা বাবতেই পারিনি।’’
রাতভর গ্রামের লোকজন টর্চ নিয়ে মেয়েটির খোঁজে আশপাশের এলাকা ঘুরলেও মেলেনি কিছুই। খোঁজ মিলল শুক্রবার সকালে। বাড়ির পাশে কলা বাগানে শিশুটির ছেঁড়াখোরা জামা পাওয়া য়ায়। তবে তার দেহাংশের কিছুই প্রায় মেলেনি বলে গ্রামবাসীরা জানান। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশের দায়সারা জবাব, শিশুটির খোঁজ করা হলেও মেলেনি কিছুই।