—প্রতীকী চিত্র।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় প্রকল্প, সেবকে তিস্তার উপরে দ্বিতীয় সেতু ও সংযোগকারী রাস্তার দরপত্র বাতিল করে দিলেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। সরকারি সূত্রের খবর, গত ২ জানুয়ারি সেবকে দ্বিতীয় বিকল্প সেতু এবং চার লেনের সংযোগকারী রাস্তার দরপত্র ডাকেন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। তা নিয়ে জানুয়ারি মাসে ফলাও করে প্রচারও করেছিল বিজেপি। প্রায় ৮৪০ কোটি টাকার দরপত্র বাতিল হয়েছে কার্যত নিঃশব্দে।
দরপত্র বাতিলের কারণে ‘প্রশাসনিক বিষয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বিশ বাঁও জলে চলে গেল কি না, উঠেছে প্রশ্ন। উত্তরবঙ্গে বিধানসভা ভোটের দিন কয়েক আগে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে বিজেপি। যদিও রবিবার দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার দাবি, চার লেন-সহ সেতু তৈরির কথা ছিল, সেটি ছয় লেনের হবে বলেই দরপত্র আপাতত বাতিল হয়েছে।
চিকেন’স নেক বলে পরিচিত শিলিগুড়ির করিডরের সঙ্গে উত্তর পূর্ব ভারতের যোগাযোগ মজবুত করতে তিস্তায় দ্বিতীয় সেতু তৈরির পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। গত জানুয়ারিতে যখন তিস্তার দ্বিতীয় সেতুর দরপত্র ডাকা হয়, তখনই নানা মহলে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। অন্তত ১২০০ কোটি টাকার দরপত্রের পরিকল্পনা হয়েছিল যে সেতু গড়তে, কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, দরপত্র হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকার।
দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় সেতুর দাবি তোলা ‘ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশাল রিফর্মস’। সংগঠনের সম্পাদক চন্দন রায়ের বক্তব্য, “আমরা মনে করছি, সেবকের তিস্তা নদীর উপরে সড়ক-সেতু তৈরির দরপত্র ডাকা নিয়ে আগাম ঘোষণা-সহ তৎপরতা শুধু ভোটের চমক ছিল।” জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনে সার্বিক বিষয়টি জানতে চেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের একটি সূত্রের দাবি, ছয় লেনের সেতু তৈরির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকে। সেখানে ছাড়পত্র পেলে, ফের দরপত্র ডাকা হবে। সাংসদ রাজু বিস্তার দাবি, “জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ছয় লেনের সড়ক-সেতু তৈরি করবেন সেবকে তিস্তার উপরে।” জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়েরও দাবি, “একটি আলঙ্কারিক এবং মডেল সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সড়ক কর্তৃপক্ষ, তাই দরপত্র বাতিল হয়েছে।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে