উদ্ধার: কাবুল বিমানবন্দরে ভারতীয় বায়ুসেনা বিমান।
অন্ধকার রাস্তায় গাড়িগুলি ছুটছে বিমানবন্দরের দিকে। ভিতরে দমচাপা উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে আছেন ওঁরা। কেউ কাজ করতেন নিরাপত্তারক্ষীর, কেউ প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনও পেশাদার হিসেবে। মোবাইল ফোনগুলি থম মেরে আছে। কেউ টুঁ শব্দটি করছেন না, পাছে সশস্ত্র তালিবান আওয়াজ শুনে থামিয়ে দেয় গাড়ি!
উৎকণ্ঠাও শেষ হয় এক সময়ে। কাবুলের বিমানবন্দরে একে একে ঢোকে গাড়িগুলি। রানওয়েতে অপেক্ষায় ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। রয়েছে বিশেষ বিমানও। শনিবার ভোরে বায়ুসেনার বিমান উড়ে গেল উজবেকিস্তান হয়ে দুবাই। তার পর সেখান থেকে সোজা ধরবে ভারতের পথ। মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে দেশে ঢোকা। অন্য বিশেষ বিমান কোনওটি কাবুল থেকে পাড়ি দিল লন্ডন, কোনওটি কাঠমান্ডু। সব মিলিয়ে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার মোট ৮৬ জন শনিবার সকালে আফগানিস্তান ছেড়ে বেরোলেন দেশের উদ্দেশে। ঘটনাচক্রে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দেশে ফিরতে চাওয়া ভারতীয়দের একটি দলকে অপহরণের অভিযোগ উঠল তালিবানের বিরুদ্ধে।
নিরাপত্তার কারণে সরকারি ভাবে এখনও অবশ্য কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে দার্জিলিং শহরে এ দিন সকালেই খবরটি চলে আসে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কয়েকটিতে। অবশ্য শনিবার সন্ধ্যা অবধি জেলা প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি। জেলাশাসক এস পুন্নমবলম বলেছেন, ‘‘আমি বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনছি। তবে সরকারি ভাবে আমার কাছে কোনও তথ্য এখনও পাঠানো হয়নি।’’
প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, কাবুল থেকে নানা ধরনের ঝুঁকি নিয়ে বিমানে চাপিয়ে দেশে ফেরানোর কাজ চলছে। এক দফায় বায়ুসেনার বিমানে দূতাবাসের সরকারি অফিসার, কর্মীদের তুলে আনা হয়েছিল। পরের বার আরও শতাধিককে আনা হয়েছে। বহু আমেরিকান বিমানে ভারতীয়দের দুবাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দূতাবাস, সংস্থায় কর্মরতেরা এ ভাবে কাবুল ছেড়েছেন।
ফেরা: (উপরে) কাবুল বিমানবন্দরে পাহাড়ের কয়েকজন বাসিন্দা। নিজস্ব চিত্র।
কার্শিয়াংয়ের সেন্ট মেরিস হিলের বাসিন্দা বাপ্পি থাপা কর্মসূত্রে ছিলেন আফগানিস্তানে। তাঁর আত্মীয় রজনী থাপা বলেন, ‘ভোরবেলা দুবাই এসে যোগাযোগ করছিল। তার পরে আর করেনি। আফগানিস্তান ছেড়েছে শুনেই আমাদের আতঙ্ক অনেকটা কেটেছে। এবার নিশ্চয়ই ঠিকঠাক বাড়ি ফিরবে।’’ তিনধারিয়ায় সেলিম হিলের বাসিন্দা বিশাল লামারও এই দলের সঙ্গে ঘরে ফেরার কথা। তাঁর পরিবারের তরফে দিশুলা তামাং বলেন, ‘‘কাবুল থেকে বার হয়ে গিয়েছে, সেটা জানিয়েছে। আর ফোন আসেনি। আমরাও কোনও নম্বরে যোগাযোগ করতে পারিনি।’’
বিমানে বসে রয়েছেন ভারতীয়েরা। শনিবার ভোরে। নিজস্ব চিত্র।
শুক্রবারই জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ের শতাধিক ব্যক্তি আটকে আফগানিস্তানে, বেশিরভাগই কাবুলে। তাঁদের বেশ কয়েকটি পরিবার এ দিন হাঁফ ছাড়লেন। বাকিরা এখনও ‘শুভ সংবাদের’ পথ চেয়ে।