হোম-স্টে নিয়ে কড়া প্রশাসন

সত্যি-মিথ্যের ধাঁধা কাটাতে নয়া নীতি

ওয়েবসাইটের ছবিতে পাহাড় ঘেরা সুন্দর সাজানো কটেজ। বিরাট সুবজ ঘাসের গালিচা বিছানো বাগান। কোথায় আবার টেলিফোনে খোঁজ নিলে বলা হচ্ছে, ঘরের সঙ্গেই টিপটপ বাথরুম আর ব্যালকনি।

Advertisement

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:২৪
Share:

ওয়েবসাইটের ছবিতে পাহাড় ঘেরা সুন্দর সাজানো কটেজ। বিরাট সুবজ ঘাসের গালিচা বিছানো বাগান। কোথায় আবার টেলিফোনে খোঁজ নিলে বলা হচ্ছে, ঘরের সঙ্গেই টিপটপ বাথরুম আর ব্যালকনি। সেগুন কাঠের পালিস করা আসবাব। চিনেমাটির বাসনপত্র। মূল রাস্তা থেকে হেঁটে ১০ মিনিট এগোলেই গন্তব্য। সঙ্গে স্থানীয় রেসিপির সন্ধান।

Advertisement

কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পর্যটকদের অভিজ্ঞতা বদলে যাচ্ছে। অপরিষ্কার পুরোনো ঘর, কংক্রিটের খাট, নড়বড়ে আসবাব। বাগান বা রাস্তার অবস্থা তথৈবচ। কর্মীদের প্রশিক্ষণও নেই।

নিম্ন মানের শৌচালয় বা সাধারণ খাবারের ব্যবস্থা। যে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তাতে ভাল জায়গাতেই থাকা যেত। ট্রেন বা গাড়ির ধকলের পর বাধ্য হয়েই রাত কাটাতে হচ্ছে পর্যটকদের। দীর্ঘ দিন রাজ্যের একাংশ হোমস্টের- বিরুদ্ধে গিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। বাড়ির পাশে ১/২টি ঘর নিয়ে কোনওমতে চলছে হোম-স্টে। প্রচার করা হচ্ছে, আধুনিক সুবিধার।

Advertisement

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ‘হোম-স্টে’গুলিকে নজরদারির মধ্যে রেখে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রথমবার নীতি রূপায়ণ করতে চলছে রাজ্য পর্যটন দফতর। যদিও কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের হোম-স্টে নিয়ে ‘ব্রেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ নামের একটি প্রকল্প রয়েছে। কেন্দ্রের মন্ত্রকে আবেদন করা নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়াও সম্ভব। কিন্তু দার্জিলিঙের পাহাড়ি গ্রাম বা সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দিল্লি, কলকাতায় নিয়মিত যোগাযোগ করে তা করার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। সেই জায়গায় স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে তৈরি রাজ্যের আইন জরুরি হয়ে পড়েছিল।

সরকারি সূত্রের খবর, ‘ওয়েস্টবেঙ্গল হোম-স্টে ট্যুরিজম পলিসি-২০১৭’-নামের নীতি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে রাজ্য জুড়ে লাগু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্যটন দফতর। ২০২২ সালের ৩১ মার্চ অবধি নীতিটি কার্যকর থাকবে।

নীতির একটি খসড়া তৈরি করে বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষজ্ঞদের মতামত চেয়ে পাঠিয়েছে পর্যটন দফতর। আগামী মাসের মধ্যে তা দেখে নিয়ে নীতি চূড়ান্ত করে দিতে চাইছে সরকার। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ‘‘আমরা হোম-স্টে নিয়ে সুস্পষ্ট নীতি তৈরি করেছি। বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। ওই নীতি মন্ত্রিসভায় মাধ্যমে চূড়ান্ত হতে চলেছে। পরিষেবা এবং মান বাড়ানো এর লক্ষ্য।’’

দফতর সূত্রের খবর, শহর থেকে দূরে আর শহরের কাছাকাছি — দুই স্তরে রাজ্যের হোম-স্টেগুলিকে ভাগ করা হচ্ছে। তার পরেও পরিকাঠামোর দিক থেকে সেগুলিকে আবার (এ এবং বি ক্যাটাগরি) ভাগ করে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। এর জন্য জেলা ধরে ধরে কমিটি থাকছে, তাতে দফতরের প্রধান সচিব, পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এমডি, জেলাশাসক, স্থানীয় থানার আইসি বা ওসি এবং একজন বিশেষজ্ঞ থাকবেন।

নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, কম করে ১টি ঘর বা ৬টি ঘর হোম-স্টেতে চালু করে মালিককে সেখানেই থাকতে হবে। ওই জমিতে অন্য কোনও বাণিজ্যিক কাজ করা যাবে না। ইংলিশ স্টাইলের শৌচালয়, পৌঁছানোর ভাল রাস্তা থাকতেই হবে। সাইনবোর্ড, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, পরিকাঠামোর তথ্য, বিল-ভাওচারের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক। ভাড়া সব সময়ই সরকারি অনুমোদিত হবে। খাবার এবং থাকার ক্ষেত্রে হোম-স্টেটি নিরাপদ, পরিষ্কার এবং সুরক্ষিত হতে হবে।

পর্যটকদের শুধু ঢাল নয়, প্রস্তাবিত নীতিতে হোম-স্টে ধারণাকে আরও বাড়াতে মালিকদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। পরিকাঠামোর জন্য অনুদান, সার্ভিস-সেলস-ভ্যাট ছাড, ডোমেস্টিক রেটে বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ, জমির চরিত্র বদলের ছাড় রয়েছে। তেমনই, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, জৈবচাষ, এলাকার তথ্য ভিত্তিক সম্যকজ্ঞানের জন্য ফ্যামট্রিপ ছাড়াও সরকারি ওয়েবসাইট, হোর্ডিং, ব্রোসিওরে প্রচারের সুবিধাও থাকবে। দফতরের কয়েক জন অফিসার জানান, রাজ্যে সমুদ্র, নদী, পাহাড়, জঙ্গল, চা বাগান ঘেরা এলাকায় কম করে ৫০০ উপর হোম-স্টে রয়েছে। যার অধিকাংশের মান ভাল নয়। এবার সেটাকেই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হচ্ছে। কারণ গত বছর ৭১ লক্ষ পর্যটক রাজ্যে এসেছেন। যা আগেরবারের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। তাই এখনই দরকার আরও থাকার ঘর।

হোম-স্টে নিয়ে নয়া নীতি

• কম করে ১টি ঘর বা ৬টি ঘর হোম-স্টেতে চালু করে মালিককে সেখানেই থাকতে হবে।

• ওই জমিতে অন্য কোনও বাণিজ্যিক কাজ করা যাবে না।

• ইংলিশ স্টাইলের শৌচালয়, পৌঁছানোর ভাল রাস্তা থাকতেই হবে।

• সাইনবোর্ড, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, পরিকাঠামোর তথ্য, বিল-ভাওচারের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক।

• ভাড়া সব সময়ই সরকারি অনুমোদিত হবে।

• ভাড়া সব সময়ই সরকারি অনুমোদিত হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement