ছবি: সংগৃহীত।
অবিরাম বর্ষণে টইটম্বুর উত্তরবঙ্গের নদী-জলাশয়। এর মধ্যে তিস্তার জলোচ্ছ্বাসের মাঝে উঠে এল একটি সাদা রঙের বিশাল পাইথন। সেটি ‘বিরল’ অ্যালবিনো পাইথন কি না, তাই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল দার্জিলিঙের লিখুভির এক বাসিন্দার মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি ভিডিও।
সম্প্রতি ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন লিখুভির এলাকায় তিস্তার পারে একটি সাদা রঙের বিশালাকার পাইথন দেখা গিয়েছে। স্থানীয় বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিরল প্রজাতির অ্যালবিনো পাইথন। যার দেখা পাওয়াই চমকপ্রদ ব্যাপার। যদিও পাইথনটির প্রজাতি নিয়ে বিতর্ক চলছেই।
দিন চারেক হল সিকিমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বর্ষণ চলছে। এর জেরে তিস্তায় ব্যাপক জলস্ফীতি লক্ষ করা গিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে তিস্তা তীরবর্তী বেশ কিছু জায়গায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। এমনকি দুধিয়া সেতুর পাশে নির্মিত বিকল্প পথও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির কারণে বনাঞ্চল থেকে ওই সাপটি বেরিয়ে এসেছে। স্রোতে ভাসতে ভাসতে লিখুভিতে এসে পড়ে।
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, অ্যালবিনিজ়মের কারণে এই সাপের শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থের অভাব রয়েছে। ফলে তার গায়ের রং ধবধবে সাদা কিংবা ‘দুধসাদা’ দেখায়। কিন্তু বন্য পরিবেশে এদের দেখা পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তাই সাপটি কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়েও চর্চার অন্ত নেই।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে কর্নাটকে একটি অ্যালবিনো পাইথনের সন্ধান মিলেছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, উত্তর-পূর্ব ভারতের আশপাশের রাজ্যগুলিতেও এর আগে অ্যালবিনো পাইথনের দেখা মেলেনি বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।
রাধাকৃষ্ণণ পানিক্কর নামে এক ব্যক্তি তিস্তার পারে সাপটির ছবি এবং ভিডিয়ো করেছেন। সেই ছবি এবং ভিডিয়ো নিয়ে এখন আলোচনা চলছে সামাজমাধ্যমে।