পরিত্যক্ত কুয়োয় পড়ে বাইসন। —নিজস্ব চিত্র।
নাগরাকাটার চাপড়ামারির পুরনো রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হল একটি ভারতীয় বাইসনকে। শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুনরায় প্রাণীটিকে জঙ্গলে ছেড়ে এসেছেন বনকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার ঘোরাঘুরি করার সময় বাইসনটি একটি গভীর পরিত্যক্ত কুয়োয় পড়ে যায়। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান জলপাইগুড়ি বন বিভাগের কর্মীরা। পরিস্থিতি দেখে জেসিবি আনা হয়। এর পর কুয়োর একাংশ খুলে একটি ঢালু মাটির পথ তৈরি করেন বনকর্মীরা। তার পরেই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছে বাইসনটি।
তাকে উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে পশুচিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ার পর বাইসনটিকে নিকটবর্তী জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) নীথু জর্জ থোপ্পান, চালসা রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার প্রকাশ থাপা এবং বিট অফিসার মোহাম্মদ ইমরান আসলাম। তাঁদের সঙ্গে বনকর্মীদের একাধিক দল সক্রিয় ভাবে অংশ নেন।
বন দফতর সূত্রে খবর, যে কুয়ো থেকে বাইসনটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি অনেক দিন ধরে অব্যবহৃত ছিল। উদ্ধার অভিযানের পর কুয়োটি ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্য বনপাল ভাস্কর ভি বলেন, “বনকর্মীদের দ্রুত ও দক্ষ পদক্ষেপের ফলে প্রাণীটি নিরাপদে জঙ্গলে ফিরে যেতে পেরেছে। আমরা বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় পুরনো এবং বিপজ্জনক কুয়ো বা গর্তগুলো চিহ্নিত করে সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় বনদপ্তরের তৎপরতা ও কর্মীদের অভিজ্ঞতা আবারও প্রমাণ করল যে, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও উদ্ধার অভিযানে তাঁদের দক্ষতা এবং দায়বদ্ধতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দারাও বনদপ্তরের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।’’