—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আসন্ন বিধানসভা ভোটে পাহাড়ের তিনটি আসনের প্রার্থী নিয়ে ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েছে বিজেপি। পাহাড়-সহ উত্তরবঙ্গে দলের একটা বড় অংশ চাইছে, পাহাড়ে দলীয় প্রতীকে নিজেদের প্রার্থীরা লড়াই করুক। কিন্তু বিমল গুরুং, মন ঘিসিং-দের মতো সঙ্গীরা তা মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, গতবারের মতো শরিকদের প্রার্থীরা লড়াই করবে। প্রতীক নিয়ে সমঝোতা হতে পারে।
এই টানাপোড়নের মধ্যে বিজেপিকে লোকসভায় সমর্থন করা গোর্খা নেতা তথা প্রাক্তন জিটিএ চেয়ারম্যান বিনয় তামাংও গেরুয়া দলের কাছে পাহাড়ের তিনটি আসন আঞ্চলিক দলগুলিকে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। বিভিন্ন আলোচনায় তিনি সমন্বয়ের কাজও করছেন। শুধু তাই নয়, ডুয়ার্সের গোর্খা প্রভাবিত চারটি আসন নিয়ে বিজেপিকে ভাবার কথা বলেছেন। বিনয় বলেন, ‘‘বিজেপিকে পাহাড়ের শরিকেরা সমর্থন করে চলেছে। গোর্খাদের প্রতি বিজেপির অবস্থান, ওঁদের সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট হবে। সব কিছু তো এক তরফা হতে পারে না।’’ তিনি জানান, পাহাড়ের তিনটি আসন আঞ্চলিক দলগুলিকে ছাড়া দরকার। আর মালবাজার, নাগরাকাটা, কালচিনি এবং মাদারিহাট আসনে গোর্খা প্রার্থী বিজেপির দাঁড় করানো দরকার। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, ‘‘পাহাড়ের একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আশা রাখি, সেই সম্পর্ক ভালই থাকবে।’’
সম্প্রতি দলের রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা মঙ্গল পান্ডের নেতৃত্বে পাহাড়ে বৈঠকও করেছে বিজেপি। সেখানে শরিকদের পাশে রেখে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষেই বেশি সওয়াল হয়েছে। তা না করা হলে পাহাড়ে দলের সংগঠন বৃদ্ধি পাবে না বলেও পাহাড়ের নেতারা অনেকেই জানিয়ে দিয়েছেন। তবে পাহাড়ের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শরিকদের না করতে পারছেন না বিজেপি নেতৃত্ব। তবে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত না হলেও, শরিকেরা রশি টানাটানি শুরু করে দিয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, দার্জিলিং আসন নিয়ে সবচেয়ে বেশি দড়ি টানাটানি চলছে। জিএনএলএফ থেকে বিমল গুরুং সকলেই দার্জিলিং আসনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী চাইছেন। দার্জিলিঙের এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকও হয়েছে, তাতেও বরফ গলেনি বলে দাবি। এ দিকে বিজেপির বড় অংশ নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। পাহাড়ের ছোট দলগুলিকে বিজেপির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সকলের সমর্থন নিয়ে বিজেপি প্রার্থী ঠিক করবে।
পাহাড়ের জনপ্রতিনিধিদের নানা সময়ে নানা মন্তব্য অতীতে বিজেপির পক্ষে অস্বস্তিকর হয়েছে। তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। গত ভোটে দার্জিলিং আসনে জিএনএলএফের সাধারণ সম্পাদক নীরজ জিম্বা জেতেন। কার্শিয়াং আসনে গোর্খা জনমুক্তির মোর্চার নেতা বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা জেতেন। দু’জনই বিজেপির প্রতীকে লড়েছিলেন। কালিম্পং আসনে অবশ্য বিজেপি হেরেছিল। যদিও বিজেপি অন্দরের দাবি, এ বারের বিধানসভা ভোটে কোন ভাবেই ভোট কাটাকাটির পরিস্থিতি রাখা যাবে না। প্রয়োজনে আরও একাধিকবার বৈঠক হবে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, ‘লড়াইটা তৃণমূলকে হারানোর, সেটাই আসল লক্ষ।’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে