Suvendu Adhikari

শুভেন্দুকে ঘিরে ধুন্ধুমার, ‘স্বচ্ছতা’র দাবিতে উত্তাপ

এসআইআর নিয়ে জরুরি শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন হিসাবে পূর্ব নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারি অপরিবর্তিত রেখে আরও যে যে নির্দেশ এসেছে, তাতে দৃশ্যত উৎফুল্ল রাজ্যের শাসক দল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৬
Share:

শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা চলছেই। এরই মধ্যে, এসআইআর সংক্রান্ত কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করতে ভিন্-রাজ্য থেকেও বিচারক নেওয়া যাবে বলে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর এই আবহে, মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থক বুথ লেভল আধিকারিকেরা (বিএলও) বিক্ষোভ দেখালে, পাল্টা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

এসআইআর নিয়ে জরুরি শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন হিসাবে পূর্ব নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারি অপরিবর্তিত রেখে আরও যে যে নির্দেশ এসেছে, তাতে দৃশ্যত উৎফুল্ল রাজ্যের শাসক দল। সুপ্রিম-নির্দেশকে সামনে রেখে আদালতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালের কথা এ দিনও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তারা। এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে স্পষ্ট, এসআইআর-এ যা হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। বাংলা-বিরোধী আর ‘নির্যাতন কমিশন’ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতের বিবেচনায় মা-মাটি- মানুষের বক্তব্যই প্রাধান্য পেয়েছে।’’

উল্টো দিকে, নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে চাপ বাড়িয়েছে রাজ্য বিজেপিও। সুপ্রিম-রায়ের পরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের প্রধান সচিব মনোজ পন্থের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ দিন সিইও দফতরে গিয়েছিলেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু। এসআইআর-সংক্রান্ত বৈঠকে উপস্থিত থাকায় মনোজের গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন তিনি। বিরোধী নেতা এ দিন সিইও দফতরে ঢুকতে গেলে, সেখানে আগে থেকেই ধর্না দেওয়া তৃণমূল সমর্থক বিএলও-রা শুভেন্দুর গাড়ি ঘিরে ‘চোর’ ‘চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। জুতোও দেখিয়েছেন কয়েক জন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুভেন্দু দফতরে ঢুকে কমিশনে দাবিদাওয়ার কথা জানিয়ে আসেন। তিনি সিইও দফতর থেকে বেরোতে গেলে ফের বিক্ষোভের চেষ্টা হয়। তত ক্ষণে বিজেপি কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলে গোলমাল বাধে। পুলিশ পরিস্থিতির সামাল দেয়। দৃশ্যত উত্তেজিত শুভেন্দু বলেছেন, “ওঁরা আগেও অসভ্যতা করেছেন।” রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ হলেও পুলিশ কেন বিএলও-দের সংগঠনকে জমায়েতের অনুমতি দিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ দিকে বিজেপি সমর্থকদের ‘বিশৃঙ্খলা’র একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূলও। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের কথায়, ‘‘শুভেন্দু লাগাতার যে প্ররোচনা দিচ্ছেন, তার প্রতিবাদ তো হবেই। তবে এই রকম বহিঃপ্রকাশ সমর্থনযোগ্য নয়।’’

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া। —নিজস্ব চিত্র।

এই আবহে সুপ্রিম-নির্দেশে কমিশনেরই ব্যর্থতা প্রমাণিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, “রাজ্য সরকার, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, ইআরও, এইআরও-রা ব্যর্থ। তাই অন্য রাজ্য থেকে বিচারক আনতে হবে। কবে তালিকা বেরোবে, কতটা তালিকা বেরোবে, কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে, স্পষ্ট নয়। যাঁদের নাম তালিকায় থাকবে না, তাঁরা কী করবেন? রাজ্য, কেন্দ্র বা কমিশন কেউ সেই জবাবের দায় এড়াতে পারে না।’’ সেই সঙ্গেই তৃণমূলকে বিঁধে তাঁর সংযোজন, ‘‘অবৈধ শিক্ষক বাঁচাতে যেমন বৈধ শিক্ষকের চাকরি গিয়েছিল, তেমনই এখানে বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দায় কে নেবে?’’ আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “নথি যাচাইয়ে নিযুক্ত আধিকারিকেরা ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারবেন বলে আশা রাখি।’’

এসইউসি-র রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্যও বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারকেরা সংবিধানের যে ধারায় যোগ্য-অযোগ্য নিষ্পত্তি করবেন, তা নাগরিকত্ব নির্ণয়ের বিধি ছাড়া আর কিছু নয়।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন