চলছে উদ্ধারকাজ। —নিজস্ব চিত্র।
রাস্তা থেকে খাদে গাড়ি পড়ে গেল উত্তর সিকিমে। এখনও পর্যন্ত তিন জনকে উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দু’জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরও আট পর্যটকের খোঁজে তল্লাশি অভিযান জারি রেখেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার উত্তর সিকিমের চুংথাং থেকে মুন্সিথাং যাওয়ার রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পর্যটকদের একটি গাড়ি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি প্রায় ১০০০ ফুট নীচে তিস্তা নদীতে পড়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটিতে ১১ জন ছিলেন। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ত্রিপুরার বাসিন্দা বলেই খবর। মঙ্গনের পুলিশ সুপার সোনম ডিচু জানান, ১১ জন পর্যটক ছিল ভাড়াগাড়িটিতে। একাধিক দফতর উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে। ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিকিম পুলিশ এবং ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি) উদ্ধারকাজে নেমেছে। বৃহস্পতিবার সারা রাত ধরে তল্লাশি চলে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় মাঝে মধ্যে ব্যাহত হয়েছে উদ্ধারকাজ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সিকিমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন ওড়িশার বিজেপি মহিলা মোর্চার সাধারণ সম্পাদক ইতশ্রী জানা ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। দুই ভাই এবং তিন বোনকে নিয়ে ওই বিজেপি নেত্রী বেড়াতে সপরিবার গিয়েছিলেন উত্তর সিকিমে। বৃহস্পতিবার লাচেন থেকে লাচুং যাওয়ার পথে ওই দুর্ঘটনা হয়। জানা যাচ্ছে, দু’টি গাড়ি করে ইতশ্রীরা যাচ্ছিলেন। দ্বিতীয় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তায় পড়ে যায়। ওই গাড়িতে ছিলেন ইতশ্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরা এবং আরও কয়েক জন।
পরে ঋষি সংলগ্ন তাতোপানি এলাকায় তিস্তার নদী গর্ভে গাড়িটির হদিস মেলে। সেই গাড়িতে এক জনকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়। গাড়ি থেকে বিজেপি নেত্রীর ছোট ছেলে এবং অন্য এক পর্যটককে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় গ্যাংটকের একটি হাসপাতালে। এক জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই দুর্ঘটনা নিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিংহ তামাং। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘গত ২৯শে মে রাতে মঙ্গন জেলার চুবোম্বুর কাছে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আমি গভীর ভাবে শোকাহত। লাচেন থেকে লাচুং যাওয়ার সময় একটি পর্যটক গাড়ি তিস্তা নদীতে পড়ে যায়। এমন অত্যন্ত কঠিন সময়ে আমার সমবেদনা এবং প্রার্থনা রইল নিহত এবং আহতদের পরিবারের প্রতি।’ ক্ষতিগ্রস্তদের সকল রকমের সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।