সৈকতের সই কেন দত্তকের নথিতে, আসরে বিজেপি

তৃণমূল নেতার যোগাযোগের পাল্টা অভিযোগ তুলে শিশু পাচার কাণ্ডে এ বার আসরে নামল বিজেপি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০২:১২
Share:

জলপাইগুড়ি যুব তৃণমূল সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র

তৃণমূল নেতার যোগাযোগের পাল্টা অভিযোগ তুলে শিশু পাচার কাণ্ডে এ বার আসরে নামল বিজেপি।

Advertisement

বিজেপির নেতাদের দাবি, চন্দনা চক্রবর্তীর হোম যে ৫২টি শিশুকে দত্তক দিয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে তার অন্তত ২০টি লেনদেনে আইনজীবী হিসেবে সই রয়েছে তৃণমূলের জলপাইগুড়ি যুব সভাপতি, আইনজীবী সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের। তাই সিবিআই তদন্ত হলে তৃণমূল নেতাদের অনেকের যোগাযোগ প্রমাণ হবে বলে দাবি বিজেপির।

শুক্রবারই বিজেপি নেত্রী জুহি চৌধুরীর বাড়ির সামনে সৈকতবাবুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তৃণমূল। সৈকতবাবুর দাবি, সেই কারণেই তাঁকে নিশানা করেছে বিজেপি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি হোমের পক্ষে কোনও মামলা লড়িনি। পেশাদার আইনজীবী হিসেবে দত্তক লেনদেনের ২০টি আবেদনে সই করেছিলাম মাত্র। সব নথি যথাযথ নেই টের পেয়ে বছর পাঁচেক আগে আবেদনের নথিতে সই করাও বন্ধ করে দিয়েছি।’’ সৈকতবাবুর আরও দাবি, তিনি যে দম্পতিদের দত্তক লেনদেনের নথিতে সই করেছিলেন, তাঁদের একজনও শিশু পাননি। তাই প্রয়োজনে বিজেপির বিরুদ্ধে মানহানির মামলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৈক। তবে সিআইডি সূত্রের খবর, সন্দেহজনক প্রতিটি লেনদেনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে প্রয়োজনে আইনজীবীদের সহায়তা চাওয়ার কথাও ভাবছেন অফিসাররা।

Advertisement

আইন অনুযায়ী, দত্তক নিতে চেয়ে আগ্রহী দম্পতি এবং যে সংস্থা দত্তক দেবে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আবেদন করতে হয়। বিজেপির জেলা সভাপতি দীপেন প্রামাণিকের দাবি, ‘‘২০১৩ সাল পর্যন্ত ২০টি আবেদন দাখিল করেছিলেন সৈকত। তাই তিনি হোমে অনিয়মের অভিযোগের দায় এড়াতে পারেন না।’’ বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতে এসে কর্মিসভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতাদের অনেকে জড়িত রয়েছেন।

সৈকত প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘কে কোথায় কী উদ্দেশ্যে অভিযোগ করেছে তা আগে জানতে হবে। দলে আলোচনা করতে হবে। তারপরেই কোনও মন্তব্য করতে পারব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement