নিয়ম মেনে: খোলা হচ্ছে সরকারি হোর্ডিং। বালুরঘাটে। নিজস্ব চিত্র
আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে তার মধ্যেই চার বারের সাংসদ রণেন বর্মনের নামে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে বালুরঘাট সংসদীয় এলাকায়। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঠিক করতে মঙ্গলবার বৈঠকে বসছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে দিনই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়ে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে এখনও তেমন উচ্চবাচ্য নেই। বিজেপির একাংশ নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, তৃণমূলের প্রার্থী দেখে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিজেপি শিবির তাই তৃণমূলের উপরে নজর রাখছে। বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকারের কথায়, ‘‘আগে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা হবে। তারপরে আমাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।’’
বিজেপি কেন তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে? সূত্রের খবর, বালুরঘাট কেন্দ্র নিয়ে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব যথেষ্ট আশাবাদী। এই কেন্দ্র নিয়ে তাই অন্য কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির প্রার্থী হতে চেয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে ছয়টি নামের তালিকা পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে বর্তমান জেলা সভাপতি থেকে প্রাক্তন জেলা সভাপতি গৌতম চক্রবর্তীর নাম যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে গতবারের প্রার্থী বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরীর নাম। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদারের মতো নবীন, রাজনীতিতে নবাগতদের নামও রয়েছে তালিকায়।
কিন্তু তারপরেও প্রার্থী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বিজেপি। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অন্দরে প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দিন দিন প্রকট হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বর্তমান সাংসদ অর্পিতা ঘোষ ও জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে বলেও বিজেপির দাবি। দুই শিবিরের অনুগামীরা অর্পিতা ও বিপ্লবকে প্রার্থী করার দাবি নিয়ে নানা ভাবে প্রচারও করছে। এই দড়ি টানাটানিতে তৃণমূল নেতৃত্ব কাকে প্রার্থী করে সেদিকেই তাকিয়ে আছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের প্রার্থী দেখে সেই অনুযায়ী বিজেপি তাদের রণ কৌশল সাজিয়ে প্রার্থী দেবে বলে সূত্রের খবর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, "এই কেন্দ্রে আমাদের জেতার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় তড়িঘড়ি যাকে তাকে দাঁড় করিয়ে জেতার সম্ভাবনাকে নষ্ট করতে চাইছে না নেতৃত্ব। এ জন্যই নামের তালিকা পাঠানো হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। আগে জল মাপা হবে তারপরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার তৃণমূল তাদের তালিকা ঘোষণা করলে, বুধবারই বিজেপি তাদের তালিকা ঘোষণা করবে। কারণ, ভোট প্রচারের সময়ও বেশি হাতে নেই। তাই রাজ্যের শাসক দলের পরেই কেন্দ্রের শাসকদল ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে বলে খবর।